রাজধানীর শ্যামলী থেকে কথিত জিনের বাদশা ও তার দুই সহকারীকে আটক করেছে র্যাব। এ সময় তাদের কাছ থেকে বেশকিছু সিম ও ৭টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
বিভিন্ন সিম থেকে কণ্ঠ পরিবর্তন করে জিনের বাদশা দাবি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ওই চক্র। কথিত জিনের বাদশার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ৮টি মামলা রয়েছে।
কখনো অনুনয় বিনয়, আবার কখনো গায়েবি আওয়াজের মতো গম্ভীর কণ্ঠে কথা বলে, সহজ সরল বহু মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে কথিত জিনের বাদশা সাইফুল।
কাউকে বন্ধু পরিচয়ে, কারো ফেসবুক আইডি হ্যাক করে, আবার কাউকে মা-বাবা মারা যাওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা পাঠাতে বলত সে। দেখানো হতো দান করা টাকা দ্বিগুন হয়ে যাওয়ার প্রলোভনও।
নীলফামারির ডোমারে বাড়ি হলেও সারাদেশে সিম পরিবর্তন করে প্রতারণা চালাত সাইফুল। ধরা পড়ার পর ৮ মামলার আসামি সাইফুল প্রায় ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার কথা অকপটে স্বীকার করে।
বাদশা সাইফুল জানায়, টাকা নিয়েছি অনেকবার কিন্তু হিসেব নেই।
জানা গেছে, তার এক বন্ধু মাহফুজ মোবাইল ব্যাকিংয়ে চাকরির সুবাদে নতুন নতুন সিম সাইফুলকে সরবরাহ করে সহযোগিতা করত। লোকজনের পাঠানো টাকা বিকাশের মাধ্যমে আসত রাকিবের নম্বরে। রাকিব প্রতি লেনদেনে জন্য পেত ২ হাজার টাকা করে।
- আরও পড়ুন >> চাঁদ দেখা গেছে, মঙ্গলবার রোজা শুরু
- আরও পড়ুন >> আইপিএলের শেষ চারের সূচি
কথিত জিনের বাদশা সাইফুলের সহকারী মাহফুজ বলেন, আমি রকেটে কাজ করতাম, বিভিন্ন সময়ে জিনের বাদশাকে সহযোগিতা করতাম।
তাদের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীদের নানা অভিযোগের ভিত্তিতে র্যাবের দীর্ঘ অনুসন্ধানে প্রতারণার মাধ্যমে ২৩ লাখ টাকা লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া যায়।
কথিত জিনের বাদশা চক্রে মোট ১০ জন জড়িত বলে জানায় র্যাব। তাদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ব্যবস্থা নেয়া হবে।