চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের রাজনৈতিক দল চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিসিপি) এর নয় কোটিরও বেশি সদস্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়ার পরিকল্পনা করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এরই মধ্যে এমন একটি খসড়াও প্রস্তুত করেছে হোয়াইট হাউস। শুক্রবার কয়েকটি সূত্রের বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান ও রয়টার্স।
সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন যে, এই বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলবে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সূত্র জানিয়েছে, খসড়া তৈরি ও আলোচনা প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এখনো এ বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কানে তোলা হয়নি।
এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টিকে মার্কিন তালিকায় উচ্চপর্যায় থেকে নিম্নপর্যায়ে নেমে আসবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এমনটি হলে চীনে ভ্রমণ করা মার্কিনিদের ওপর এর প্রতিশোধ নেয়া হতে পারে।
এ নিয়ে প্রথম প্রতিবেদন প্রকাশ করা নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, চীনে ক্ষমতাসীন দলটির সদস্যদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে এর আওতায় পড়বেন দেশটির শীর্ষ ধনী এবং ই-কমার্স জায়ান্ট আলিবাবার প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মা। নতুন নির্বাহী আদেশে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত সিসিপি সংশ্লিষ্ট ও তাদের পরিবারের সদস্যদের ভিসাও বাতিল করা হতে পারে।
সেখানে বলা হয়েছে, শুধু চীনা কমিউনিস্ট পার্টির ৯ কোটি ২০ লাখ সদস্যই নয়, দেশটির সশস্ত্র বাহিনী পিপলস লিবারেশন আর্মির সব কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের সদস্যদেরও যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের সুবিধা সীমিতকরণ বা পুরোপুরি নিষিদ্ধের পরিকল্পনাও করছে ওয়াশিংটন।
নিষেধাজ্ঞার গুঞ্জনের বিষয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চানইং বলেছেন, এ খবর যদি সত্যি হয় তাহলে সেটি হবে ট্রাম্প প্রশাসনের নেয়া ‘উৎপীড়ক কৌশল’। চীন যা করছে তার সবকিছুই হুমকি মনে করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি কালেহি ম্যাকেনি সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমরা চীন সম্পর্কিত প্রতিটি বিষয় টেবিলে রেখেছি।’