যে কারণে প্রতিদিন লবণ পানি দিয়ে গার্গল করা উচিত

রাকীবা ঐশী

যখন আপনি গলা ব্যথা বা মাড়ি থেকে রক্তঝরা সমস্যায় ভোগেন, তখন লবণ ও পানির মিশ্রণ দিয়ে গার্গল বা কুলকুচা করার পরামর্শ দেয়া হয়। এটি সহজ, সাশ্রয়ী এবং ঘরে বসেই তৈরি করা যায়। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার এটির কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই। বেশকিছু গবেষণা বলছে, লবণ ও পানি দিয়ে গার্গল করলে অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যার চিকিৎসার ক্ষেত্রেও সেটি সহায়তা করে। চলুন জেনে নেয়া যাক প্রতিদিন লবণ পানি দিয়ে গার্গল বা কুলকুচা করার সুবিধাগুলো-

পিএইচ লেভেল ঠিক রাখে : লবণ ও পানির মিশ্রণ গলায় ব্যাকটেরিয়া থেকে তৈরি অ্যাসিডগুলো দূর করতে সহায়তা করে। এটি স্বাস্থ্যকর পিএইচ ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং মুখের অবাঞ্ছিত ব্যাকটেরিয়াগুলোর বৃদ্ধি রোধ করতে সহায়তা করে।

নাকের সর্দি দূর করে : লবণ পানি দিয়ে গার্গলিং শ্বাস প্রশ্বাসের ট্র্যাক্ট এবং নাকের ভিতরের শ্লেষ্মা অপসারণ করতে সহায়তা করে। এর ফলে নাক জ্বালা এবং গলা ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এছাগা, এটি ব্যাকটিরিয়া এবং ভাইরাসকে ধ্বংস করে যাতে পরবর্তিতে রক্ত জমাট না বাঁধে।

শ্বাস-নালীরসংক্রমণরোধ : জাপানে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, দিনে তিনবার গরম পানির সাথে লবণ মিশিয়ে গার্গলিং বা কুলকুচি করলে তা শ্বাসনালীর সংক্রমণের ঝুঁকি ৪০% কমাতে সাহায্য করে।

টনসিলাইটিস থেকে মুক্তি : টনসিল হচ্ছে দুটি টিস্যু যা গলার পিছনে অবস্থিত, যা ব্যাকটিরিয়া এবং ভাইরাল সংক্রমণের কারণে ফুলে যায়। ফুলে থাকা টনসিলাইটিসে খাবার খাওয়ার সময় ব্যথা করে। লবণ পানির মিশ্রণ দিয়ে গার্গলিং বা কুলকুচা আপনাকে ব্যথা থেকে মুক্তি দিতে সহায়তা করতে পারে।

দুর্গন্ধ দূর করে : আপনার মুখের দুর্গন্ধ দূর করার জন্য লবণ পানির কুলকুচা বা গার্গল একটি কার্যকর উপায় হতে পারে। এটি মুখের ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে দুর্গন্ধ হতে দেয় না।

মাড়ি ও দাঁতে ব্যথা কমায় : ব্যাকটেরিয়ার কারণে দাঁতের মাড়িতে যে রোগ হয় যেমন- মাড়ি ফোলা এবং রক্তক্ষরণ, লবণ পানির গরম মিশ্রণ দিয়ে গার্গল করলে সেটি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। লবণ ও পানি দিয়ে গার্গলিং আপনার দাঁত ব্যথা থেকে মুক্তি এবং মুখের ভিতরের ব্যাকটেরিয়ার সাথে লড়াই করতে সহায়তা করতে পারে।

মুখের ঘা দূর করে : মুখের ঘার চেয়ে বেশি যন্ত্রণাদায়ক আর কী হতে পারে। এমনকী এর কারণে আপনার খাবার খেতেও অসুবিধা হয়। লবণ ও পানির মিশ্রণ দিয়ে গার্গলিং ব্যথা কমাতে এবং দ্রুত সেরে ওঠতে সহায়তা করে।

যেভাবে লবণ পানি দিয়ে গার্গল বা কুলকুচা করবেন

* এক কাপ গরম পানির সাথে আধা চা চামচ পরিমাণ লবণ নিন। এটি পুরোপুরি দ্রবীভূত না হওয়া পর্যন্ত নাড়ুন।

* মিশ্রণ থেকে একটি বড় চুমুক নিন এবং এটি আপনার মুখে ধরে রাখুন।

* আপনার মাথাটি আবার কাত করুন এবং প্রায় ৩০ সেকেন্ডের জন্য আপনার গলায় লবণ পানি দিয়ে কুলকুচা বা গার্গল করুন এবং তারপরে থুতু ফেলুন।

* আপনি পুরো কাপটি শেষ না করা পর্যন্ত একই প্রক্রিয়াটি পুনরাবৃত্তি করুন।

শেয়ার করুন
  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    2
    Shares

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে