শৈলকুপায় নির্বাচনী সহিংসতায় স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ নিহত ২

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

আওয়ামী লীগ নেতা লিয়াকত হোসেন বল্টু- স্বতন্ত্র কাউন্সিলর প্রার্থী আলমগীর হোসেন বাবু

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় ভোটের প্রচারণা চালাতে গিয়ে দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে কাউন্সিলর প্রার্থী শওকত হোসেনের ভাই আওয়ামী লীগ নেতা লিয়াকত হোসেন বল্টু (৫০) নামে একজন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছে অন্তত ৬ জন। উপজেলা শহরের কবিরপুর এলাকায় বুধবার রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। অপরদিকে লিয়াকত হোসেন বল্টু নিহত হওয়ার ৫ ঘণ্টা পর একই ওয়ার্ডের স্বতন্ত্র কাউন্সিলর প্রার্থী আলমগীর হোসেন বাবুর মরদেহ নদীতে অর্ধপোতা অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী ও অপর প্রার্থী আলমগীর হোসেন খান বাবুর সর্মথকরা কবিরপুর এলাকায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় প্রতিপক্ষের অস্ত্রের আঘাতে আহত হন আওয়ামী লীগ মনোনীত কাউন্সিলর প্রার্থী শওকত আলীর ভাই স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা লিয়াকত আলী বল্টু। তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত লিয়াকত আলী বল্টু ১৩নং উমেদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আরএমও ডা. তাপস কুমার সরকার জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। লিয়াকতকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন তিনি।

এ ঘটনার পরে রাত ১১ টার দিকে পুলিশ সুপার মো. মুনতাসিরুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

শওকত আলীর সমর্থক নজরুল ইসলাম জানান, সংঘর্ষের একপর্যায়ে লিয়াকত আলী বল্টু গলির ভেতর পড়ে যান। এসময় আলমগীর হোসেন বাবুর সমর্থকরা তাকে কুপিয়ে জখম করে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

নদীতে অর্ধপোতা অবস্থায় স্বতন্ত্র কাউন্সিলর প্রার্থীর লাশ উদ্ধার

এদিকে লিয়াকত হোসেন বল্টু (৫০) নিহত হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর একই ওয়ার্ডের স্বতন্ত্র কাউন্সিলর প্রার্থী আলমগীর হোসেন বাবুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বল্টু খুন হওয়ার পাঁচ ঘণ্টা পর রাত ১টার দিকে নদীতে অর্ধপোতা অবস্থায় স্বতন্ত্র কাউন্সিলর প্রার্থী বাবুর মরদেহ পাওয়া যায়।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দুটি মৃত্যুর ঘটনায় প্রচার-প্রচারণাকে কেন্দ্র করে। এলাকাবাসী মনে করছেন, একটি ঘটনার জেরে আরেকটি ঘটনা ঘটেছে। এদিকে কাউন্সিলর প্রার্থী বাবুর সমর্থক ও তার পরিবার দাবি করছে, পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

পরপর দুটি মৃত্যুর ঘটনায় শৈলকুপা পৌরসভার ভোটারদের মাঝে চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। শহরসহ পৌর এলাকার সর্বত্র পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মোড়ে মোড়ে পুলিশ চেকিং চলছে।

শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম জানান, কমিশনার প্রার্থী আলমগীর হোসেন বাবুর মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো এই কাউন্সিলর প্রার্থীর মৃত্যু সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। তদন্তের পর তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে জানা যাবে।

শেয়ার করুন
  • 6
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    6
    Shares