রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কমনওয়েলথের সহায়তা চাইলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। ফাইল ছবি

রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়া ত্বরান্বিত করতে এবং আন্তর্জাতিক আদালত (আইসিজে) কর্তৃক ‘সাময়িক ব্যবস্থা’ প্রতিপালনে মিয়ানমারকে সম্পৃক্ত করার জন্য কমনওয়েলথের চেয়ার যুক্তরাজ্যসহ সদস্য দেশগুলোর কাছে সহায়তা চেয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সুস্পষ্টভাবে পুনর্ব্যক্ত করতে চায় যে, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত সব রোহিঙ্গাকে নিরাপত্তা ও মর্যাদাসহ রাখাইনে তাদের জন্মভূমিতে দ্রুত সময়ে প্রত্যাবাসন করা আমাদের কাছে সর্বাধিক অগ্রাধিকারের বিষয় হয়ে রয়েছে।

universel cardiac hospital

বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) লন্ডনে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথের পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রীদের ২১তম সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ লন্ডন মিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পররাষ্ট্র, কমনওয়েলথ ও উন্নয়ন দপ্তর (এফসিডিও) বিষয়ক যুক্তরাজ্যের নব নিযুক্ত মন্ত্রী এলিজাবেথ ট্রুস এ সভায় সভাপতিত্ব করেন।

এসময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমেন আন্তর্জাতিক আদালতের (আইসিজে) সাময়িক ব্যবস্থা প্রতিপালন এবং রোহিঙ্গাদের স্থায়ী প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করার জন্য মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিশ্বব্যাপী সমতা বজায় রেখে ও বৈষম্যহীনভাবে করোনার ভ্যাকসিন সরবরাহের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন এবং কোভ্যাক্সের অধীনে ভ্যাকসিনের দ্রুত ও সুষম বিতরণের লক্ষ্যে সম্মিলিত আওয়াজ তোলার জন্য কমনওয়েলথ মন্ত্রীদের প্রতি আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈশ্বিক জলবায়ু নেতৃত্বের প্রশংসা করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রথমবারের মতো ৪৮ সদস্যের ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামকে (সিভিএফ) স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য কমনওয়েলথকে ধন্যবাদ জানান এবং ক্লাইমেট ফাইন্যান্স অ্যাকশন হাবের অধীনে সিভিএফ ও কমনওয়েলথের মধ্যে জলবায়ু সমৃদ্ধি প্রকল্পগুলোকে ভাগ করে দেওয়ার প্রস্তাব দেন।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলিজাবেথ ট্রুস বাংলাদেশের পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে রোহিঙ্গা বিষয়ে কমনওয়েলথের এজেন্ডা তুলে ধরেন। পরে যুক্তরাজ্যের কমনওয়েলথ মন্ত্রী লর্ড আহমদ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মানবিক নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। সেইসঙ্গে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদে ও স্থায়ীভাবে প্রত্যাবর্তনের জন্য যুক্তরাজ্যের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেন।

সভায় যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশনার ও কমনওয়েলথ বোর্ড অব গভর্নরের গভর্নর সাইদা মুনা তাসনিমও অংশ নেন।

শেয়ার করুন
  • 3
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    3
    Shares