বিশ্ব খাদ্য দিবসের প্রত্যাশা

ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম

বিশ্ব খাদ্য দিবস

মানুষের মৌলিক চাহিদা খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসার মধ্যে খাদ্য প্রথম। সেই খাদ্যের জোগানের একমাত্র মাধ্যম কৃষি। কিন্তু ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা অধ্যুষিত বিশ্বের ৭০০ কোটি মানুষের মধ্যে প্রায় ১৩ কোটি ৫০ লাখ মানুষ এখনো খাদ্যের অভাবে ধুঁকে মরছে।

গত কয়েক দশকে পৃথিবীর আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে চাষযোগ্য জমি সংরক্ষণ, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, কৃত্রিম বনায়ন, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ইত্যাদি কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলো, বৈশ্বিক, আঞ্চলিক ও জাতিসংঘের সংস্থাগুলো বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ব্যস্ত হয়ে আছে বিশ্বের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।

universel cardiac hospital

এর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)। কৃষিকে কেন্দ্র করে বিশ্বের মানুষের প্রয়োজনীয় খাদ্যের জোগান, দরিদ্র ও পুষ্টিহীনতা দূর করে ক্ষুধামুক্ত পৃথিবী গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে ১৯৪৫ সালের ১৬ অক্টোবর জন্ম নেয় জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা। লাতিন ভাষায় এর স্লোগান ‘ফিয়াত পানিস’- ‘সবার জন্য রুটি’। বর্তমানে ১৯৭টি সদস্য রাষ্ট্র নিয়ে পরিচালিত এফএওর মূল সদস্য সংগঠন ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

আন্তর্জাতিক খাদ্য ও কৃষি সংস্থা গঠনের ধারণাটি সর্বপ্রথম দেন মার্কিন কৃষিবিদ ডেভিড লুবিন। ১৯৪৫ সালের ১৬ অক্টোবর কানাডার কুইবেক শহরে ‘আন্তর্জাতিক কৃষি ইনস্টিটিউট’ গঠিত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আনুষ্ঠানিকভাবে এ সংগঠনের ইতি ঘটে। পরে এটি খাদ্য ও কৃষি সংস্থা নামে আত্মপ্রকাশ করে। গত শতাব্দীর চল্লিশের দশকের শেষ সময় থেকে এফএও জাতিসংঘের কাঠামোর মধ্যে থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

১৯৭৯ সালে বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার ২০তম সাধারণ সভায় হাঙ্গেরির তৎকালীন খাদ্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. প্যাল রোমানি এফএও-এর জন্মদিনটি বিশ্বব্যাপী উদযাপনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৮১ সাল থেকে বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার প্রতিষ্ঠার দিনটি (১৬ অক্টোবর, ১৯৪৫) দারিদ্র্য ও ক্ষুধা নিবৃত্তির লক্ষ্যে এবং বিভিন্ন বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশে গুরুত্বের সঙ্গে পালিত হয়ে আসছে।

আর ১৯৮১ সালেই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিটি দেশের সরকার ও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ক্ষুধা, অপুষ্টি ও দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করার সংগ্রামে জড়িত করার প্রতিপাদ্য নিয়ে ‘বিশ্ব খাদ্য দিবস’ উদযাপন শুরু হয়। বিশ্ব খাদ্য দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো- ক্ষুধা, অপুষ্টি ও দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তোলা, কৃষির উন্নতিতে মনোযোগ দেওয়া, কৃষিভিত্তিক উৎপাদনে উৎসাহ দান করা, অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সহায়তা গ্রহণে উৎসাহ প্রদান, গ্রামীণ জনগণ, মূলত নারী ও পিছিয়ে পড়া মানুষের অবদানে উৎসাহ দান ও প্রযুক্তির সমৃদ্ধিকে বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়া।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থাটি বিশ্বের উন্নত, উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশে আধুনিক ও উন্নত কৃষি, প্রাণী, বনায়ন ও মৎস্য চাষে সহায়তার মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছে। বিশ্বব্যাপী খাদ্য ও পুষ্টির নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তার প্রধান উদ্দেশ্য। তাই বিভিন্ন দেশে কৃষি ও খাদ্যের সঙ্গে জড়িত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে এফএও বিশ্বের বহু আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে মিলে একসঙ্গে নানা প্রকল্প হাতে নিয়ে কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করে, যেন সবার জন্য খাদ্য ও পুষ্টির নিশ্চয়তার সুযোগ তৈরি হয়।

সংস্থাটির নিরলস প্রচেষ্টায় ইতোমধ্যে বিশ্বব্যাপী যে সাফল্যগুলো অর্জিত হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- ৩০টিরও বেশি দেশের সাংবিধানিক কাঠামোতে জনগণের জন্য খাদ্য লাভের অধিকারকে প্রধান মানবাধিকার হিসাবে স্বীকৃতি ও নিশ্চিতকরণ, সবার জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড কোডেক্স অ্যালিমেন্টারিয়াস তৈরি, অবৈধ ও অনিয়ন্ত্রিত মাছধরা নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রথম আন্তর্জাতিক চুক্তি প্রণয়ন, গবাদিপশুর প্লাগ নির্মূলকরণ, লাতিন আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনা, খাদ্য ও কৃষিতে বিশ্বের বৃহত্তম এবং সর্বাধিক বিস্তৃত পরিসংখ্যানীয় ডাটাবেজ বজায় রাখা ইত্যাদি।

এ ছাড়া ২০১৫ সালের মধ্যে বিশ্বে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনতে জাতিসংঘ কর্তৃক প্রণীত সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ক্ষুধামুক্ত বিশ্ব প্রতিষ্ঠায় টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে ফলপ্রসূ সহযোগিতা করে যাচ্ছে। পৃথিবীজুড়ে গ্লোবাল ওয়ার্মিংসহ সবার জন্য খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ সংস্থাটির গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যগুলোর মধ্যে একটি।

সারা বিশ্বের ক্ষুধার সঙ্গে স্থুলতা ও অপুষ্টিজনিত সমস্যা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে এফএও প্রতিষ্ঠার এ দিনটিতে নতুন নতুন থিম নিয়ে বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশ নানা কর্মসূচি পালন করে থাকে। ক্ষুধামুক্ত পৃথিবীর প্রত্যয়ে ২০১৮-এর এ দিবসটির প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘কর্ম গড়ে ভবিষ্যৎ, কর্ম গড়বে ২০৩০’-এ ক্ষুধামুক্ত বিশ্ব। ‘আমাদের কর্মই আমাদের ভবিষ্যৎ, পুষ্টিকর খাদ্যেই হবে আকাঙ্ক্ষিত ক্ষুধামুক্ত পৃথিবী’ প্রতিপাদ্য নিয়ে ২০১৯-এর বিশ্ব খাদ্য দিবস পালিত হয়েছে।

বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারির কারণে ক্ষুধামুক্ত বিশ্ব গড়ার চ্যালেঞ্জ আরও কঠিনতর রূপ নিয়ে এসেছিল ২০২০ সালে। তাই প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল Grow, Nourish, Sustain Together অর্থাৎ ‘বৃদ্ধি, পুষ্টি, টেকসই একসঙ্গে। আমাদের কার্যক্রম, আমাদের ভবিষ্যৎ’। মহামারির এ সংকটে সবাইকে মিলিতভাবে টেকসই খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছিল, যাতে করে সবার জন্য পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করা যায়, বিশেষত দরিদ্র ও দুর্বল জনগোষ্ঠীর জন্য, যারা মহামারির ধাক্কায় সবচেয়ে বেশি আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে।

চলমান প্রতিকূলতার মাঝে ২০২০ সালে ক্ষুধামুক্ত পৃথিবী গড়ার লড়াইয়ে ভূমিকা রাখায় শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিল বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি। ‘বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি’ জাতিসংঘের খাদ্য সহায়তা সংক্রান্ত এক শাখা, যা যারা নিজেদের ও পরিবারের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ খাবার উৎপাদন কিংবা আহরণ করতে সক্ষম নয়, তাদের সহায়তা করে। এফএওর ৭৬তম জন্মবার্ষিকীতে বিশ্ব খাদ্য দিবস ২০২১ সম্পূর্ণ অন্যরকমভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। চলমান বিশ্বব্যাপী কোভিড মহামারির কারণে পুষ্টিকর খাদ্যের আবশ্যকতা ভিন্নভাবে উপলব্ধি হচ্ছে।

এরই ধারাবাহিকতায় ২০২১-এ প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘Our actions are our future-Better production, better nutrition, a better environment and a better life’ অর্থাৎ ‘আমাদের কর্মই আমাদের ভবিষ্যৎ- উন্নত উৎপাদন, উন্নত পুষ্টি, উন্নত পরিবেশ এবং উন্নত জীবন’। আমরা যা কিছু খাদ্য হিসাবে গ্রহণ করার জন্য নির্বাচন করি, তা যেমন আমাদের দেহে প্রয়োজনীয় পুষ্টির জোগান দিয়ে আমাদের উন্নত ও স্বাস্থ্যকর জীবন গঠনে সহায়তা করে, তেমনি আমাদের উৎপাদন ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে পরিবেশের সার্বিক কল্যাণও ঘটায়।

বর্তমান বিশ্বের প্রতি ৯ জনে একজন অপুষ্টির শিকার। এ হিসাবে অপুষ্টির শিকার মোট জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ৭৯ কোটি ৫০ লাখ। এ জনগোষ্ঠীর দুই-তৃতীয়াংশের বসবাস এশিয়া মহাদেশে। সারা বিশ্বে প্রাথমিক পর্যায়ে পড়াশোনা করে এমন ৬ কোটি ৬০ লাখ শিশু পেটে ক্ষুধা নিয়ে স্কুলে যায়। আবার বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশ লোকের কর্মসংস্থান আসে কৃষি থেকে।

কৃষিকাজে নারীর গুরুত্ব তুলে ধরে কৃষিতে নারীরা যদি পুরুষের সমানভাবে অংশ নেন, তাহলে বিশ্বে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা ১৫ কোটি পর্যন্ত কমতে পারে। করোনা মহামারির প্রকোপ কাটিয়ে উঠতে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ক্ষুধা দূর করে খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি নিশ্চিত করে কৃষিতে টেকসই উন্নয়নের জন্য এফএওর সুপারিশক্রমে প্রণীত ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার’ আটটি লক্ষ্যমাত্রা পূরণে বিশ্বের সব দেশকে একে অপরকে সাহায্য প্রদানের মাধ্যমে কাজ করে যেতে হবে।

তন্মধ্যে রয়েছে সদ্যভূমিষ্ঠ শিশু থেকে শুরু করে খাদ্য নিরাপত্তার ঝুঁকিতে থাকা সবার ক্ষুধা দূর করা, অপুষ্টির শিকার ৫ বছরের কম বয়সি শিশু, অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে, গর্ভবতী ও বুকের দুধদানকারী নারী এবং বয়স্ক ব্যক্তিসহ সব মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণ, কৃষি উৎপাদন ও কৃষকের আয় দ্বিগুণ করা, টেকসই কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। কৃষি উৎপাদনে পরিবেশের ভারসাম্য নিশ্চিত করে জলবায়ু পরিবর্তন, প্রতিকূল আবহাওয়া, বন্যা, খরার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে যাতে ফসল টিকে থাকতে পারে তা নিশ্চিত করা, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে গ্রামীণ অবকাঠামো, কৃষিভিত্তিক গবেষণা ও প্রযুক্তি উন্নয়নের মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলোর কৃষি উৎপাদন নিশ্চিত করা, বিশ্ব কৃষি বাজারের সঠিক ব্যবস্থাপনা ও কৃষি পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে অহেতুক নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়গুলো এড়িয়ে চলা এবং বিশ্ব খাদ্যপণ্যের বাজারে দাম স্থিতিশীল রাখতে নির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে বিশ্ব খাদ্য দিবস পালন যথার্থতা লাভ করবে।

সাম্প্রতিক দশকগুলো বিশ্বব্যাপী কৃষিক্ষেত্রে দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছে। যদিও চাহিদার দিক বিবেচনা করলে বিশ্বের খাদ্য উৎপাদন যথেষ্ট, তবুও সার্বিক খাদ্য ব্যবস্থায় রয়ে গেছে অসমাঞ্জস্যতা। খাদ্য ব্যবস্থার সমস্যাগুলোর মধ্যে আছে ক্ষুধা, অস্বাভাবিক স্থুলতা, পরিবেশগত অবক্ষয়, জৈবিক বৈচিত্র্য হ্রাস, খাদ্য ও বর্জ্যরে অব্যবস্থাপনা ইত্যাদি।

সাম্প্রতিক মহামারি করোনা মারাত্মক সংকট ডেকে এনেছিল কৃষক ও খাদ্য ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার জীবনে। করোনাভাইরাস সংকটের কারণে খাদ্য সমস্যাটি কঠিন হয়ে ওঠার আশঙ্কা ছিল উন্নত দেশগুলোতেও। কিন্তু তীব্র সংকটময় এ পরিস্থিতেও বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ইতিবাচক।

বাংলাদেশের খাদ্য পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার ‘র‌্যাপিড অ্যাসেসমেন্ট অব ফুড অ্যান্ড নিউট্রিশন সিকিউরিটি ইন দ্য কনটেক্স অব কোভিড-১৯ ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিগত ৪০ বছরে কৃষিক্ষেত্রে ও খাদ্য নিরাপত্তায় বাংলাদেশ অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। বিশেষত প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, আবাদযোগ্য জমি হ্রাস, জলবায়ু পরিবর্তন এবং দক্ষিণাঞ্চলে লবণাক্ততার পরিমাণ বাড়ার চ্যালেঞ্জের মধ্যেও বাংলাদেশ দানাদার খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পেরেছে, পেরেছে শাকসবজি, ফলমূল, মাছ, মাংস উৎপাদনে ব্যাপক সফলতা।

বাংলাদেশের এ অর্জন অন্যান্য সদস্য দেশগুলোর জন্য উদাহরণ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষে এবং স্বাধীনতার পঞ্চাশতম বছরের প্রাক্কালে আর একটি বিরাট গৌরব বাংলাদেশ লাভ করেছে এফএওর পক্ষ থেকে এবং তা হলো, ২০২২ সালে এফএওর ৩৬তম এশিয়া-প্যাসিফিক আঞ্চলিক সম্মেলন আয়োজন করবে বাংলাদেশ। ১৯৭৩ সালে খাদ্য ও কৃষি সংস্থাতে যোগদানের পর প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ এ সম্মান পেয়েছে। ঢাকায় ৩৬তম অধিবেশন এ অঞ্চলের দেশগুলোর অর্জন, সাফল্য, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন বিষয়ে মতবিনিময় ও পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন দ্বার উন্মোচন করবে।

২০২১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ ফুড সিস্টেম সামিটে করোনা-পরবর্তী পুনরুদ্ধার ও স্থিতিশীল খাদ্য ব্যবস্থার মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনের ওপর জোর দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার জন্য অধিক খাদ্য উৎপাদন, খাদ্যের অপচয় হ্রাস, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তার জন্য কৃষিতে গবেষণা, বিনিয়োগ, উন্নত প্রযুক্তি বিনিময়, প্রয়োজনীয় তহবিল ইত্যাদিসহ পাঁচ দফা সুপারিশ পেশ করেন।

বাংলাদেশের সংবিধানে খাদ্য ও পর্যাপ্ত পুষ্টিকে মৌলিক অধিকার হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তাই অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা, জাতীয় কৃষি নীতি-২০১৮ ও তার কর্মপরিকল্পনা, জাতীয় খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নীতি ২০২০ তে দেশের খাদ্যব্যবস্থার রূপান্তরের জন্য গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। প্রতিবছর দিবসটি পালনে বাংলাদেশে কৃষি মন্ত্রণালয় রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে র‌্যালি, সেমিনার ও মেলার আয়োজন করে থাকে। আশা করি, জাতিসংঘ ফুড সিস্টেম সামিটে বিশ্ব খাদ্য ব্যবস্থার সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে বাংলাদেশে কৃষি মন্ত্রণালয় ও এফএও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ দফা বাস্তবায়ন ও ক্ষুধামুক্ত পৃথিবী গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করে যাবে, অর্জিত হবে বিশ্ব খাদ্য দিবস পালনের যথার্থতা।

ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম : প্রফেসর, কৃষিব্যবসা ও বিপণন বিভাগ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়; ফুলব্রাইট, কমনওয়েলথ, বিশ্বব্যাংক, বফ, ইরাসমুস মুন্ডুস ও এনডোভার ফেলো

শেয়ার করুন
  • 4
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    4
    Shares