জামিনে মুক্তি পেলেন সম্রাট

নিজস্ব প্রতিবেদক

সম্রাট
ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট। ফাইল ছবি

কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট । মুক্ত হওয়ার আগ মুহূর্তে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন। সোমবার রাত ১০টার দিকে তার জামিননামা বিএসএমএমইউতে পৌঁছানো হয়। এরপর তার পাহারায় থাকা কারারক্ষীদের সরিয়ে নেয় কারা কর্তৃপক্ষ।

এর আগে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের মামলায় ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের জামিনের আদেশের কপি কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছে। সেটি যাচাই-বাছাই শেষে তাকে মুক্তি দেওয়া হবে বলে জানানো হয়। সোমবার এ তথ্য জানান কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ এস এম আনিসুল হক।

universel cardiac hospital

তখন কারা মহাপরিদর্শক বলেন, আমাদের কাছে জামিনের কাগজ এসেছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই চলছে। তার বিরুদ্ধে যদি আর কোনো অভিযোগ না থাকে তাহলে তাকে মুক্ত করে দেওয়া হবে।

ঢাকা কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দি সম্রাট কারা হেফাজতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) হৃদরোগ বিভাগে ভর্তি ছিলেন।

নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাস

জামিনের সংবাদ পেয়ে রাতেই বিএসএমএমইউর হৃদরোগ বিভাগের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন এই নেতাকে দেখতে ছুটে আসেন নেতাকর্মীরা।

সম্রাটের রুম কয়েকস্তরে নিরাপত্তা চাদরে ঢাকা। অনুমতি ছাড়া কাউকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। নিরাপত্তার দায়িত্বে আছেন গেটে চারজন আনসার সদস্য। আর তার রুমের আশেপাশে বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী।

রাত ১১টার আগে চিকিৎসক এসে রাতের খাবার খাওয়ানোর পরে ওষুধ দিয়ে চলে যান। এর কিছু সময়ের মধ্যে ঘুমিয়ে পড়েন সম্রাট। পরে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক ব্যক্তি এসে সবাইকে চলে যাওয়ার অনুরোধ করলে তারা সরে পড়েন। তিনি বলেন, সকালে সিডিউল করে দেখা করানোর ব্যবস্থা করা হবে।

এরআগে সন্ধ্যা থেকে হাসপাতালের ডি ব্লকের নিচে ও ওয়ার্ডের সামনে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। কিছু নেতাকর্মীকে ভেতরে ডেকে নিয়ে কথা বলতে দেখা গেছে।

নেতা সম্রাটের সাক্ষাৎ পেয়ে হাসতে হাসতে বের হওয়া এক নেতা বলেছেন, ‘সম্রাট যুবলীগের স্পন্দন। তার জন্য অনেক নেতাকর্মী অপেক্ষায় আছেন। নেতারা সমস্যায় পড়লে তার জনপ্রিয়তা কমে যায়। কিন্তু সম্রাটের ক্ষেত্রে সেটা হয়নি। সম্রাটের জনপ্রিয়তা কর্মীদের কাছে কমেনি, কমবেও না।

চকবাজার ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের পদবঞ্চিত এক যুবলীগ নেতা বলেন, সম্রাট ভাই যুবলীগের নেতৃত্বে না এলে যুবলীগকে সংগঠিত করা সম্ভব হবে না। সম্রাট ভাই এখন অসুস্থ। তিনি সুস্থ হলে অবশ্যই আবার রাজনীতিতে ফিরবেন বলে বিশ্বাস করি।

কিন্তু তার সঙ্গে দেখা করে বের হওয়া বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী এই প্রতিবেদককে জানান আগের থেকে অনেকটাই সুস্থ আছেন সম্রাট। তবে তার পুরোপুরি সুস্থ হতে আরো বেশ কিছুদিন সময় লাগবে। তবে তিনি বিএসএমএমইউ হাসপাতালে আর চিকিৎসা নেবেন কি না এ বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।

দুই শর্তে জামিন

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় সোমবার (২২ আগস্ট) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬ এর বিচারক আল আসাদ মো. আসিফুজ্জামান জামিন দেন সম্রাটকে। অসুস্থ বিবেচনায় তাকে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জামিন দেওয়া হয়। আদালত দুই শর্তে সম্রাটের জামিন দেন- সম্রাটকে পাসপোর্ট জমা দিতে হবে এবং তিনি বিদেশ যেতে পারবেন না।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি সম্রাটের বিরুদ্ধে করা চার মামলার মধ্যে এর আগে তিন মামলায় জামিনে আছেন তিনি। সর্বশেষ মামলায়ও আজ জামিন পেলেন। এখন তার কারামুক্তিতে আর বাধা নেই বলে জানান আইনজীবী।

সিনিয়র আইনজীবী ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর এহসানুল হক আসামিপক্ষে জামিন আবেদনের শুনানি করেন।

এই মামলায় এর আগে গত ১১ মে সম্রাটকে জামিন দিয়েছিলেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬ এর বিচারক আল আসাদ মো. আসিফুজ্জামানের আদালত। সেদিনই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএসএমইউ) প্রিজন সেল থেকে কারামুক্তি পান সম্রাট।

বিচারিক আদালতের দেওয়া সম্রাটের জামিন বাতিল চেয়ে গত ১৬ মে হাইকোর্টে আবেদন করে দুদক। ১৮ মে সম্রাটের জামিন বাতিল করেন বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। একই সঙ্গে সাত দিনের মধ্যে তাকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

গত ২৪ মে আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন সম্রাট। অন্যদিকে দুদকের আইনজীবী তার জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬ এর বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে জামিন শুনানির জন্য ৯ জুন দিন ধার্য করেন।

এরই ধারাবাহিকতায় কয়েক দফা শুনানি শেষে আদালত আজ তার জামিন মঞ্জুরের আদেশ দিলেন।

সারা দেশে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান চলাকালে ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর সম্রাট ও তার সহযোগী তৎকালীন যুবলীগ নেতা এনামুল হক ওরফে আরমানকে কুমিল্লা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এরপর তাকে নিয়ে কাকরাইলে সম্রাটের অফিসে অভিযান চালায় র‌্যাব। সেখান থেকে অন্যান্য জিনিসের সঙ্গে একটি ক্যাঙ্গারুর চামড়া জব্দ করা হয়। বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইনে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাৎক্ষণিক সম্রাটকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন।

জ্ঞাতআয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ওই বছরের ১২ নভেম্বর সম্রাটের বিরুদ্ধে দুদকের করা মামলায় দুই কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়।

পরের বছর ২০২০ সালের ২৬ নভেম্বর এ মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় দুদক। অভিযোগপত্রে সম্রাটের বিরুদ্ধে ২২২ কোটি ৮৮ লাখ ৬২ হাজার ৪৯৩ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়।

শেয়ার করুন