পাকিস্তানে জিম্মিদশার অবসান, ৩৩ ‘সন্ত্রাসী’ ও দু্ই সৈন্য নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পাকিস্তানে সন্ত্রাসীদের হাতে জিম্মি হওয়ার ৩ দিন পর দখলমুক্ত হলো কাউন্টার টেররিজম বিভাগের (সিটিডি) একটি কার্যালয়। উদ্ধার অভিযানে জিম্মিকারী ৩৩ সন্ত্রাসী এবং দুই নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (২০ ডিসেম্বর) পাকিস্তানি প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ দেশটির জাতীয় পরিষদে এক সংক্ষিপ্ত ভাষণে এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর জিও নিউজের।

universel cardiac hospital

তিনি বলেছেন, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর স্পেশাল সার্ভিস গ্রুপ (এসএসজি) আজ দিনের প্রথমভাগে অভিযান শুরু করেছিল। এরপর ১০ থেকে ১৫ জন সৈন্য আহত এবং দু’জন নিহত হন। স্থানীয় সময় দুপুর আড়াইটার মধ্যে ভবনের নিয়ন্ত্রণ নেয় এসএসজি। জিম্মি সবাইকে মুক্ত করা হয়েছে।

খাজা আসিফ বলেন, জিম্মিকারীরা একই গোষ্ঠী বা সংগঠনের নয়, বরং বিভিন্ন নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে জড়িত।

পাকিস্তানি প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, কম্পাউন্ডের ভেতরে গ্রেফতার হওয়া ৩৩ জন সন্ত্রাসী ছিল। তাদের মধ্যে একজন এক নিরাপত্তারক্ষীকে পরাস্ত করে অস্ত্র কেড়ে নেয় এবং তার মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে। পরে বাকি সন্ত্রাসীরা মিলে পুরো ভবন দখল করে নেয়।

জিও নিউজ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িতদের সঙ্গে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) যোগসূত্র রয়েছে। এ কারণে টিটিপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছিল পাকিস্তান সরকার।

এ ঘটনায় খাইবার পাখতুনখাওয়ায় ক্ষমতাসীন ইমরান খানের দল পিটিআই’র কঠোর সমালোচনা করেছেন পাকিস্তানি প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেছেন, এ ঘটনার দুর্ভাগ্যজনক দিক হলো, সন্ত্রাসবাদ আবার খাইবার পাখতুনখাওয়া ও বেলুচিস্তানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। অন্য প্রদেশেও [সন্ত্রাসবাদের] ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু সীমান্তের ওপার থেকে বা স্থানীয়ভাবে সন্ত্রাসীরা আবার [কেপি ও বেলুচিস্তানে] উঠছে, এর স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, অঞ্চলটিতে আরও অপহরণ ও জিম্মিদশার ভয়ে স্থানীয় স্কুলগুলো মঙ্গলবার বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

প্রাদেশিক সরকারের মুখপাত্র মুহাম্মদ আলী সাইফ বলেন, সন্ত্রাসীরা অন্তত আটজন পুলিশ ও সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মুক্তি দেওয়ার বিনিময়ে নিরাপদে আফগানিস্তানে যাওয়ার সুযোগ দাবি করেছে।

এর পরপরই স্থানীয় সব স্কুল বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, আমরা আশঙ্কা করছি, তালেবান সদস্যরা শহরতলির যেকোনো স্কুলে ঢুকে শিক্ষার্থীদের জিম্মি করতে পারে। আমরা কোনো ঝুঁকি নিতে চাচ্ছি না। সে কারণেই আজকের জন্য স্কুল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

একই আতঙ্কে ঘটনাস্থলের আশপাশের সব অফিস এবং রাস্তাঘাটও বন্ধ করে দেয় পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী।

২০০৭ সালে ভয়াবহ সহিংসতার মধ্য দিয়ে পাকিস্তানে তালেবানের উদয় হয়। কিন্তু ২০১৪ সালে কঠোর সামরিক অভিযানের মুখে তা অনেকটাই স্তিমিত হয়ে আসে।

তবে গত বছর আফগানিস্তানে তালেবান ফের ক্ষমতা দখলের পর পাকিস্তানেও মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে টিটিপি। তাদের সঙ্গে পাকিস্তান সরকারের মধ্যকার অস্ত্রবিরতির মেয়াদ শেষ হয়েছে গত মাসে।

শেয়ার করুন