অর্থ ব্যয়ে নিষেধাজ্ঞায় কমেছে এডিপি বাস্তবায়ন

মত ও পথ ডেস্ক

এডিপি
ফাইল ছবি

বিদায়ী ২০২২-২৩ অর্থবছরে সরকারের প্রকল্প বাস্তবায়নে অগ্রগতি হয়েছে ৮৪ দশমিক ১৬ শতাংশ। যেখানে আগের অর্থবছরে বাস্তবায়ন হয়েছিল ৯২ দশমিক ৭৪ শতাংশ। গত অর্থবছরে বিভিন্ন খাতে মোট খরচ হয়েছে ১ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯ কোটি টাকা। যেখানে সংশোধিত এডিপিতে বরাদ্দ ছিল ২ লাখ ৩৬ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা। যদিও মূল এডিপির আকার ছিল আরও বেশি ২ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকা। তবে বিদায়ী অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়ন কম হওয়ার পেছনে কয়েকটি খাতে অর্থ ব্যয়ে নিষেধাজ্ঞা ও প্রকল্পগুলোকে একাধিক ক্যাটাগরিতে ভাগ করাকে কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা মনে করছেন, নিষেধাজ্ঞা না থাকলে এবং প্রকল্পগুলো ভাগ করা না হলে আগের অর্থবছরের চেয়ে এডিবি বাস্তবায়ন আরও বেশি হতো।

বৃহস্পতিবার (২০ জুলাই) পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন অগ্রগতির তথ্য প্রকাশ করেছে। আগের অর্থবছরের তুলনায় এডিপি বাস্তবায়ন কম হলেও তা করোনার সময়ের চেয়ে বেশি।

এডিবি বাস্তবায়ন কম হওয়ার বিষয়ে আইএমইডি সচিব আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিন বলেন, এডিপি বাস্তবায়ন খুব বেশি কম হয়নি। প্রকল্পগুলোকে ‘এ’, ‘বি’, ‘সি’ ক্যাটাগরিতে ভাগ না করা হলে এডিপি বাস্তবায়ন আরও বেশি হতো। কারণ, ‘বি’ ক্যাটাগরির প্রকল্পগুলোতে ৮৫ শতাংশ অর্থ ব্যয় করা গেছে। এছাড়া অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় কয়েকটি খাতে অর্থ ব্যয়ে নিষেধাজ্ঞাও ছিল।

আইএমইডির প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বরাবরের মতো এবারও এডিপি বাস্তবায়নে পিছিয়ে রয়েছে স্বাস্থ্যখাত। গত অর্থবছরে স্বাস্থ্যসেবা খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল ৯ হাজার ৮০৩ কোটি টাকা। আর অর্থবছর শেষে খরচ করতে পেরেছে ৬ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকা। এডিবি বাস্তবায়ন হয়েছে ৬৮ দশমিক ২০ শতাংশ। অর্থাৎ বরাদ্দের ৩২ শতাংশই খরচ করতে পারেনি। একই অবস্থায় আছে স্বাস্থ্যের আরেক খাত স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ। তাদের গত অর্থবছরে ২ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও খরচ করতে পেরেছে ১ হাজার ৬৬৪ কোটি টাকা। বরাদ্দের মাত্র ৬৯ দশমিক ৪৬ শতাংশ খরচ হয়েছে।

এডিপি বাস্তবায়নে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। তারা গত অর্থবছরে ১১৭ শতাংশ এডিপি বাস্তবায়ন করেছে। গত অর্থবছরে ৪৭ কোটি ৯৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও তারা অর্থবছর শেষে খরচ করেছে ৫৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। ১০৩ শতাংশ এডিপি বাস্তবায়ন করে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। এ খাতে গত অর্থবছরে ৪ হাজার ৫৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও খরচ হয়েছে ৪ হাজার ১৭৬ কোটি টাকা। এরপর বেশি বাস্তবায়নের তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়। তারা বরাদ্দের পুরোটাই ব্যয় করেছে। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে তদারকির দায়িত্বে থাকা বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ তাদের দেওয়া বরাদ্দের ৯৮ শতাংশ বাস্তবায়ন করেছে।

প্রতিবেদন দেখা গেছে, অর্থ খরচের দিক দিয়ে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে রয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। যদিও বড়দের তুলনায় তারা ৮১ দশমিক ৯৯ শতাংশ ব্যয় করেছে। তাদের ৪০ হাজার ১২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। অর্থবছর শেষে তারা খরচ করেছে ৩২ হাজার ৮৯৯ কোটি টাকা। খরচের দিক দিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। তারা খরচ করেছে ২৭ হাজার ২৪০ কোটি টাকা। বরাদ্দের ৯১ দশমিক ১৪ শতাংশ তারা খরচ করেছে। এরপর খরচের দিক দিয়ে এগিয়ে রয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। তারা ৭১ প্রকল্পে খরচ করেছে ২৬ হাজার ৩৫৪ কোটি টাকা। এডিপি বরাদ্দের ৯৩ দশমিক ০৬ শতাংশ তারা ব্যয় করেছে।

এদিকে সবচেয়ে কম এডিপি বাস্তবায়নের দিক দিয়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ডলার সংকটের কারণে দেশের বাইরে বিভিন্ন দেশের দূতাবাস নির্মাণে কোনো কাজ হয়নি। মন্ত্রণালয়টি গত অর্থবছরে ১ টাকাও খরচ করতে পারেনি উন্নয়ন খাতে। ২৫ শতাংশ এডিপি বাস্তবায়ন করেছে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ। তাদের ১০১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও খরচ করেছে ২৫ কোটি টাকা। ৩৯ শতাংশ এডিপি বাস্তবায়ন করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়। তারা খরচ করেছে ১৭০ কোটি টাকা। যেখানে বরাদ্দ ছিল ৪৩১ কোটি টাকা। ৪৬ শতাংশ এডিপি বাস্তবায়ন করেছে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়। গত অর্থবছরে তাদের ৭৪৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও খরচ করতে পেরেছে মাত্র ৩৫১ কোটি টাকা।

আইএমইডির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এডিপির মোট খরচের মধ্যে বিদেশি ঋণের খরচ হয়েছে সবচেয়ে বেশি। ২০২২-২৩ অর্থবছরে বিদেশি ঋণ বা প্রকল্প সাহায্য থেকে খরচ হয়েছে মোট বাজেটের ৯০ দশমিক ৪০ শতাংশ। আর সরকারি অর্থায়ন থেকে খরচ হয়েছে বাজেটের ৮১ দশমিক ৭৭ শতাংশ। অন্যদিকে নিজস্ব অর্থায়ন থেকে খরচ হয়েছে ৭৩ দশমিক ৩০ শতাংশ।

এডিপি বাস্তবায়নের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, অর্থবছরের সর্বশেষ জুন মাসে এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে ২২ দশমিক ৪৪ শতাংশ। এ আগের ২০২১-২২ অর্থবছরের জুনে বাস্তবায়ন হয়েছিল ২৭ দশমিক ৯০ শতাংশ।

শেয়ার করুন