সাবেক সংসদ সদস্য পারভিন হক সিকদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ অনুসন্ধানের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

হাইকোর্ট
ফাইল ছবি

সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য পারভীন হক সিকদারের বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতারণা’ ও ‘সরকারি তহবিল খরচের’ অভিযোগ অনুসন্ধান করতে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। দুদককে দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী ইবাদত হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।

universel cardiac hospital

একাদশ জাতীয় সংসদে পারভিন হক সংরক্ষিত নারী আসনের (শরীয়তপুর-৩৯) সংসদ সদস্য ছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব থাকার তথ্য গোপন করে তিনি সংসদ সদস্য হয়েছিলেন উল্লেখ করে সম্প্রতি পারভীন হকের বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতারণা’ ও ‘পাবলিক ফান্ড খরচের’ অভিযোগ অনুসন্ধান চেয়ে আবেদন করেন আসিফ সরকার নামের এক ব্যক্তি। আসিফ সরকার শরীয়তপুর-৩৯ আসনের একজন ভোটার। দুদকে সাড়া না পেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন তিনি।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ সাঈদ আহমেদ রাজা।

দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সাজ্জাদ হোসেন। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুদ্দিন খালেদ।
আইনজীবী মোহাম্মদ সাঈদ আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য ছিলেন পারভীন হক সিকদার। রিট আবেদনকারী জানতে পারলেন সাবেক এই সংসদ সদস্যের বাংলাদেশের কূটনৈতিক পাসপোর্টের সঙ্গে (লাল পাসপোর্ট) যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্টও ছিল।

সংবিধানের ৬৬(২)(গ) অনুচ্ছেদ অনুসারে সংসদ সদস্য হতে গেলে অন্য কোনো দেশের পাসপোর্ট বা নাগরিকত্ব ত্যাগ করতে হবে। পারভীন হক সিকদার তা না করে দুটো পাসপোর্টই রেখেছেন। অর্থাৎ সংসদ সদস্য হওয়ার পরও তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ছিলেন। এটি রাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতারণা এবং একই সঙ্গে এটি ফৌজদারী অপরাধ।’

এ আইনজীবী বলেন, সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্য না হয়েও তিনি সংসদীয় সমস্ত সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন।

রিট আবেদনকারী বিষয়টি উল্লেখ করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েছেন। সেই সঙ্গে দুদকেও আবেদন করেন। দুদক এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় তিনি রিট করেছেন।’

সাবেক সংসদ সদস্য পারভীন হক সিকদারের বিরুদ্ধে রিট আবেদনকারী আসিফ সরকারের অভিযোগ অনুসন্ধান করে কেন তা নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা মিললে পারভীন হক সিকদারের বিরূদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।

রিট আবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ২০১৪ সালের ৭ এপ্রিল পারভিন হক সিকদারকে ১০ বছরের জন্য পাসপোর্ট দেয়। এর মেয়াদ চলতি বছরের ৬ এপ্রিল পর্যন্ত।

শেয়ার করুন