দ্বিতীয় দফা বন্যা ও বৃষ্টির চাপ নিতে পারছে না সিলেট

সিলেট প্রতিনিধি

সংগৃহীত ছবি

রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। কারও কারও ঘরে কোমর থেকে বুকসমান পানি। ডুবেছে খেতের ফসল, ভেসে গেছে পুকুরের মাছ। প্লাবিত হয়েছে হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও। ঘরে মাচা বেঁধে কিংবা উঁচু স্থানে অনেকে আশ্রয় নিয়েছেন। পানিবন্দী এলাকায় দেখা দিয়েছে খাবার ও সুপেয় পানির সংকট। বিপদ আরও বাড়াচ্ছে টানা বৃষ্টি। এমন পরিস্থিতিতে মানুষ ছুটছে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে।

এবার বর্ষা মৌসুম শুরু হতে না হতেই দ্বিতীয়বারের মতো বন্যার পানিতে ডুবল সিলেট। গত সোমবার শুরু হওয়া বন্যার পানিতে জেলার প্রায় ৮০ শতাংশ তলিয়ে গেছে।

universel cardiac hospital

আবহাওয়াবিশেষজ্ঞ ও পরিবেশবিদেরা বলছেন, বন্যা ও বৃষ্টির পানির চাপ কোনোক্রমেই নিতে পারছে না সিলেট। সুরমা ও কুশিয়ারা নদী খননের কাজ না হওয়ায় এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে সিটি করপোরেশনের ১ হাজার ৭৮ কোটি টাকার প্রকল্প কাজে না আসায় অল্প বৃষ্টি ও উজানের ঢলে নগরসহ তলিয়ে যাচ্ছে জেলার বেশিরভাগ এলাকা।

পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আবদুল করিম চৌধুরী বলেন, নগরে জলাবদ্ধতা নিরসনে গত দেড় দশকে হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে। সুরমা নদী খননেও অর্ধশত কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে গত দুই বছরে। এসব প্রকল্পের কাজ যথাযথভাবে হয়নি। তাই সামান্য বৃষ্টিতেই সিলেট পানির চাপ সহ্য করতে পারছে না। এর মধ্যে ভারী বৃষ্টিতে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। এ অবস্থায় সিলেটের প্রধান দুই নদী সুরমা, কুশিয়ারাসহ সব কটি নদ-নদী খনন করা প্রয়োজন।

এর আগে ২৯ মে ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে সিলেটে বন্যা দেখা দেয়। ৮ জুনের পর থেকে বন্যা পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে আসে। সর্বশেষ সোমবার শুরু হওয়া অবিরাম বৃষ্টিতে আবার জেলায় বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। এর আগে ২০২২ সালের মে মাসে ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টিতে নগরে বন্যা দেখা দেয়।

শেয়ার করুন