উপকূলের আরও কাছে হারিকেন বেরিল, আঘাত হানবে যেসব দেশে

মত ও পথ ডেস্ক

সংগৃহীত ছবি

আটলান্টিক মহাসাগরে সৃষ্ট হারিকেন বেরিল দক্ষিণ-পূর্ব ক্যারিবীয় অঞ্চলের উপকূলের আরও কাছে পৌঁছে গেছে। চতুর্থ ক্যাটাগরির ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’ এই ঝড় ক্যারিবীয় অঞ্চলের বেশ কয়েকটি দেশে আঘাত হানতে চলেছে।

ইতোমধ্যেই সেসব দেশে এ সংক্রান্ত সতর্কতাও জারি করা হয়েছে। সোমবার (১ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

universel cardiac hospital

মূলত পূর্ব আটলান্টিক মহাসাগরে ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের দিকে ধেয়ে আসছে হারিকেন বেরিল। এটি আরও প্রবল হারিকেনে পরিণত হতে পারে এবং আঘাত হানার সময় এর গতিবেগ মারাত্মক হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মার্কিন ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টারের (এনএইচসি) বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, বার্বাডোস, সেন্ট লুসিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট এবং গ্রেনাডাইনস, গ্রেনাডা এবং টোবাগো সবই হারিকেন সতর্কতার অধীনে রয়েছে। গ্রীষ্মমন্ডলীয় এই ঝড়ের সতর্কতা মার্টিনিক, ডোমিনিকা এবং ত্রিনিদাদের জন্যও কার্যকর রয়েছে। এছাড়া এসব এলাকায় ঘূর্ণিঝড় সতর্কতাও জারি করা হয়েছে।

এনএইচসি বলেছে, রোববার ভোর রাত থেকে সোমবার সকালের দিকে হারিকেন বেরিল ক্যারিবীয় অঞ্চলের উইন্ডওয়ার্ড দ্বীপপুঞ্জে প্রাণঘাতী বাতাসের গতিবেগ নিয়ে আঘাত হানতে পারে।

পূর্বাভাসদাতারা বলেছেন, হারিকেনটি ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’ ঝড়ে পরিণত হয়েছে এবং এটি ক্যাটাগরি ফোর ঝড়ে পরিণত হওয়ার পূর্বাভাস পাওয়া গেছে। যার অর্থ হারিকেন বেরিলের আঘাত হানার সময় বাতাসের গতিবেগ ১৫৫ মাইল বা ২৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

এছাড়া বেরিলের আঘাতের সময় ক্যারিবীয় দ্বীপগুলোতে জোয়ারের স্তর স্বাভাবিকের তুলনায় ৬ থেকে ১০ ফুট বৃদ্ধি পেতে পারে। ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ বার্বাডোস, ডোমিনিকা, গ্রেনাডা এবং মার্টিনিকের কাছাকাছি এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে প্রবল এই ঝড়টি আরও শক্তিশালী হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার (এনএইচসি) তাদের পরামর্শে বলেছে, ২০২৪ মৌসুমের প্রথম এই হারিকেনটি রোববার রাতে বার্বাডোসের প্রায় ১৫০ মাইল (২৪০ কিলোমিটার) দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থান করছিল। সেসময় হারিকেনের অবস্থানস্থলে বাতাসের গতিবেগ ছিল সর্বোচ্চ ১৩০ মাইল (২১৫ কিলোমিটার)।

এনএইচসি তার সর্বশেষ পরামর্শে বলেছে, ‘বেরিল অত্যন্ত বিপজ্জনক ও প্রবল হারিকেন হিসাবে থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে কারণ এটির মূল উইন্ডওয়ার্ড দ্বীপপুঞ্জের মধ্য দিয়ে পূর্ব ক্যারিবিয়ানে চলে গেছে।’

এদিকে ক্যারিবিয়ান অঞ্চলজুড়ে বহু মানুষ তাদের বাড়িঘরের সুরক্ষার জন্য কাঠের বোর্ড দিয়ে দরজা বা জানালা ঢেকে দিচ্ছেন, অনেকে ফিলিং স্টেশনে জ্বালানির জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছেন এবং আবার অনেকে ঝড় ও দুর্যোগের প্রস্তুতি হিসেবে খাবারসহ অন্যান্য পণ্য সরবরাহ এবং পানি মজুদ করছেন।

 

শেয়ার করুন