হামাসের সামরিক সক্ষমতা প্রায় শেষ করে ফেলেছে ইসরায়েল : নেতানিয়াহু

মত ও পথ ডেস্ক

নেতানিয়াহু
নেতানিয়াহু। ফাইল ছবি

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসকে নির্মূলের লক্ষ্য নিয়ে টানা প্রায় ৯ মাস ধরে অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। বর্বর এই ইসরায়েলি আগ্রাসনে নিহত হয়েছেন প্রায় ৩৮ হাজার মানুষ।

নিরলস এই হামলায় গাজা উপত্যকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। তবে এরপরও হামাসকে নির্মূল বা পরাজিত কোনোটিই করতে পারেনি ইসরায়েল। তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দাবি, হামাসের সামরিক সক্ষমতা প্রায় শেষ করে ফেলেছে ইসরায়েল।

সোমবার (১ জুলাই) রাতে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

নেতানিয়াহুর মতে, গাজায় হামাসের সামরিক সক্ষমতা প্রায় শেষ করে ফেলেছে ইসরায়েল। তার কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের এই প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমরা হামাসের সন্ত্রাসী বাহিনীকে নির্মূল করার কাজের শেষের দিকে অগ্রসর হচ্ছি এবং হামাসের অবশিষ্টাংশের বিরুদ্ধে হামলার ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।’

এদিকে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বর্বর হামলায় আরও ২৩ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এতে করে উপত্যকাটিতে নিহতের মোট সংখ্যা পৌঁছেছে ৩৭ হাজার ৯০০ জনে। এছাড়া গত বছরের অক্টোবর থেকে চলা এই হামলায় আহত হয়েছেন আরও ৮৭ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি।

গাজা ভূখণ্ডের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় পরিবারগুলোর বিরুদ্ধে তিনটি ইসরায়েলি ‘হত্যাকাণ্ডে’ ২৩ জন নিহত এবং আরও ৯১ জন আহত হয়েছেন। অনেক মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং রাস্তায় আটকা পড়ে আছেন কারণ উদ্ধারকারীরা তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন না।

মূলত গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব সত্ত্বেও ইসরায়েল অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডে তার নৃশংস আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে।

উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর হামাসের নজিরবিহীন আন্তঃসীমান্ত হামলার পর থেকে ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় অবিরাম বিমান ও স্থল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইসরায়েলি এই হামলায় হাসপাতাল, স্কুল, শরণার্থী শিবির, মসজিদ, গির্জাসহ হাজার হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে।

এছাড়া ইসরায়েলি আগ্রাসনের কারণে প্রায় ২০ লাখেরও বেশি বাসিন্দা তাদের বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

মূলত ইসরায়েলি আক্রমণ গাজাকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে। জাতিসংঘের মতে, ইসরায়েলের বর্বর আক্রমণের কারণে গাজার প্রায় ৮৫ শতাংশ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। আর খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং ওষুধের তীব্র সংকটের মধ্যে গাজার সকলেই এখন খাদ্য নিরাপত্তাহীন অবস্থার মধ্যে রয়েছেন।

এছাড়া অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডের ৬০ শতাংশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে। ইসরায়েল ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছে। যদিও হামাসকে নির্মূল না করা পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।

 

শেয়ার করুন