জনপ্রতিনিধিরা সৎ হলে দুর্নীতিবাজরা পালিয়ে যাবে : সেতুমন্ত্রী

মত ও পথ ডেস্ক

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সংগৃহীত ছবি

জনপ্রতিনিধিরা সৎ হলে দুর্নীতিবাজরা পালিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, আবারও খেলা হবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে, লুটপাটের বিরুদ্ধে, অর্থপাচারের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশকে দুর্নীতিমুক্ত করতেই হবে। শেখ হাসিনার অঙ্গীকার আমরা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেই ছাড়ব। একটা কথা বলি, মন্ত্রী যদি সৎ হয়, সচিব যদি সৎ হয়, ওই মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতি হবে না। আমরা জনপ্রতিনিধিরা সৎ হলে দুর্নীতিবাজরা পালিয়ে যাবে।

universel cardiac hospital

বুধবার (৩ জুলাই) বিকেলে সাভারের হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ডে আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেতুমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির মনের জোর কমে গেছে, গলার জোর বেড়ে গেছে। কথায় আছে মানুষের শক্তি যত কমে, মুখের বিষ ততো উগ্র হয়। বিএনপি নেতাদের মুখের কোনো টেকসই নাই। তাদের মুখে কোনো লাগাম নাই। লাগাম দিয়ে টানবেন? লাগাম দিয়ে টেনে লাভ নাই। গাড়ি চালাও, বিএনপি বেপরোয়া গাড়ি চালায়। কখন কোথায় দুর্ঘটনা ঘটে কেউ জানে না।

সেতুমন্ত্রী বলেন, নতুন কমিটি হয়েছে কেউ জানে? নতুন কমিটি ভুয়া, বিএনপি ভুয়া। নতুন কমিটির নতুন কর্মসূচি ভুয়া। আন্দোলন কবে হবে? ঈদের পরে, এ বছর না পরের বছর। দিন যায়, মাস যায়, বছর যায় আন্দোলন আর হয় না। মরা গাঙ্গে জোয়ার আর আসে না। মরা গাঙ্গে জোয়ার আসে? বিএনপির হাত, আন্দোলনের হাত ভেঙে গেছে। এখন পরনির্ভর। এখন তারা করছে পরনিন্দা, গীবত।

তিনি বলেন, বিএনপি কি চলে, না চালায়? কে চালায়? খালেদা জিয়া বিএনপি চালায় লন্ডন থেকে রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে। সড়কপথে নয়, নদী পথে নয়, আকাশ পথে বিএনপি চলে। আকাশ পথে ডাক আসে। বিএনপির নেতাদের দিনের আহার, রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। কখন তারেক রহমানের ডাক আসে, কখন কার চাকরি নট হয়ে যায়। ফখরুল সাহেবও শান্তিতে নাই। বড় বড় নেতারা আতঙ্কে আছে। কখন কার গদি শেষ হয়ে যায়, এজন্য তারা তারেক আতঙ্কে আছে, এজন্য তাদের রাতের ঘুম হারাম।

বিএনপির রাজনীতি সম্পর্কে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, খেলা হবে, বিএনপির আগুন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে খেলা হবে। আগুন নিয়ে আসবা, খেলা হবে। আগুন নিয়ে আসলে খবর আছে। মরা গাঙে জোয়ার আসে না। বড় বড় পাতিল দিয়ে সাত দিন ধরে রান্না বান্না, মশার কয়েল নিয়ে শুয়ে ছিল রাস্তার ওপর। ২৮ তারিখে পল্টন থেকে পালালো কারা। এক মিনিটে বিএনপির মঞ্চ খালি। তারা নিয়ে আসছে জজ মিয়ার নাটক। পরে নিয়ে এলো মিয়া আরেফিন নাটক। বাইডেনের উপদেষ্টা বলে বিএনপির কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলে ইংরেজিতে। পরে দেখা গেলো ভুয়া। যখন তাকে এয়ারপোর্টে পুলিশ ধরল, পুলিশের ডান্ডা খেয়ে আর ইংরেজি বলে না। বলে বরিশালের ভাষায় কথা।

সেতুমন্ত্রী বলেন, আজই দুপুর বেলা শিক্ষকদের আন্দোলন এবং কোটাবিরোধী আন্দোলনে বিএনপি সমর্থন দিয়েছে। কোটা নিয়ে আন্দোলন আগেও ছিল, এখনও আছে। তাদের সাথে ভর করে আন্দোলন করছে বিএনপি। পরনির্ভর হলে আন্দোলন হয়? তারা ভয় দেখায় ভারত নিয়ে, তারা বলে বাংলাদেশ ইন্ডিয়া হয়ে গেল। তারা বলে শেখ হাসিনা ইন্ডিয়া গেলে কিছুই আনতে পারে না। ৬৮ বছরের সীমান্ত সমস্যা সমাধান করা হয়েছে। তাদের সাথে ২৫ বছরের মৈত্রী চুক্তি ছিল বলে ছিটমহল সমস্যা ও সীমান্ত সমস্যা সমাধান হয়েছে। গঙ্গা নদীর পানি আমরা বুঝে পেয়েছি।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়া তিন হাজার জামদানি শাড়ি নিয়ে ইন্ডিয়া গেছে। চাকর বাকর থেকে শুরু করে সবাইকে সমানে সমানে বিতরণ করেছে। ফিরে আসার পর তার কাছে গঙ্গার পানি নিয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি বলেন- গঙ্গার পানির কথা বলতে ভুলে গেছি। গঙ্গার পানির কথা বলতে ভুলে যায়। কোন মুখে এখন বিএনপি নেতারা তিস্তার পানির কথা বলে। তিস্তা নদীর হিস্যা ও অভিন্ন নদীর পানির হিস্যা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাই জানবে। কারও কথায় বাংলাদেশ ইন্ডিয়া হবে না। ৫৩ বছরে বাংলাদেশ ইন্ডিয়া হয়ে যায়নি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, খালেদা জিয়া বলেছে পার্বত্য চট্রগাম থেকে ফেনী পর্যন্ত বাংলাদেশ থাকে কিনা। পার্বত্য চট্টগামে শান্তি চুক্তি হলো, খালেদা জিয়া বলে পার্বত্য চট্টগাম থেকে ফেনী পর্যন্ত ইন্ডিয়া হয়ে যাবে, হয়েছে? বেগম জিয়া বলেছিলেন- আওয়ামী লীগে ভোট দিলে মসজিদে উলুধ্বনি হবে, আজান হবে না, হয়েছে? তারা অবান্তর কথা বলে। রিজার্ভ বেড়ে গেছে, রেমিট্যান্স বেড়ে যাচ্ছে।

সেতুমন্ত্রী বলেন, মনে রাখবেন বঙ্গবন্ধু হত্যার পর শেখ হাসিনার মতো এতো সৎ, দক্ষ, পরিশ্রমী, কূটনৈতিক নেতা বাংলাদেশে একজনও আসেনি। বঙ্গবন্ধু দিয়েছে স্বাধীনতা, শেখ হাসিনা এসেছেন মুক্তি দেওয়ার জন্য। সেই মুক্তির সংগ্রাম বাংলাদেশে আজ চলছে। ২০৪১, তারপর ২১০০ সাল। শেখ হাসিনার টার্গেট অনেক লম্বা। আমরা তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ গড়ার লড়াই করে যাচ্ছি।

ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ঢাকা-২০ আসনের সংসদ সদস্য বেনজির আহমদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রীর বেসামরিক শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, ঢাকা-১ঌ আসনের সংসদ সদস্য ও আশুলিয়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, সাভার উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম রাজীব প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন