ভারতের ঋণসহায়তায় আধুনিকায়ন হচ্ছে চট্টগ্রামের সড়কবাতির

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম নগরের সড়কবাতি ব্যবস্থার আধুনিকায়নে ২৬০ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে সিটি করপোরেশন। ভারত সরকারের ঋণসহায়তায় এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্পের কাজ পেয়েছে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান সাপুর্জি পালোনজি অ্যান্ড কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড। আজ শনিবার সন্ধ্যায় প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তি করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। প্রকল্প অনুমোদনের প্রায় পাঁচ বছর পর ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে।

আজ সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরের রেডিসন ব্লু বে ভিউয়ের মেজবান হলে ‘স্মার্ট লাইটিং-দ্য ফাউন্ডেশন অব ফিউচার স্মার্ট বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর হয়। চুক্তি স্বাক্ষর করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।

universel cardiac hospital

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে অপপ্রচার রয়েছে। বাজারে এই ধরনের কথা ভালো চলে, তাই এই অপপ্রচার হয়ে থাকে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আমল থেকে এই অপপ্রচার চলে আসছে। কিন্তু বাস্তবে দ্বিপক্ষীয় সুবিধার কথা বিবেচনা করে দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন চুক্তি হয়ে থাকে। এতে দুই দেশের মানুষ উপকৃত হয়।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণব ভার্মা বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে চট্টগ্রামে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সিটি স্ট্রিটলাইট ব্যবস্থাপনা গড়ে উঠবে। চট্টগ্রাম স্মার্ট সিটি হওয়ার জন্য একটি পদক্ষেপ হবে এটি। এতে পরিবেশবান্ধব, কম জ্বালানি ব্যবহারকারী এলইডি লাইট ব্যবহার করা হবে। প্রকল্পটি সর্বোচ্চ দক্ষতার সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ হবে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তৎকালীন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের আমলে ২০১৯ সালের জুলাইয়ে এই প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদিত হয়। দুই বছর মেয়াদি এই প্রকল্পের কাজ ২০২১ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ঠিকাদার নিয়োগে জটিলতার কারণে প্রকল্পের কাজই শুরু হয়নি। পরে দুই দফা মেয়াদ বাড়িয়েও প্রকল্পের কাজ শুরু করতে পারেনি সিটি করপোরেশন। অবশেষে অনুমোদনের পাঁচ বছর পর কাজ শুরু হতে যাচ্ছে।

প্রকল্পটির আওতায় নগরের ৪১ ওয়ার্ডে ৪৬৬ দশমিক ৭৪ কিলোমিটার সড়কে ২০ হাজার ৬০০টি এলইডি বাতি স্থাপন করা হবে। ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ বর্ধিত করা হয়েছে।

শেয়ার করুন