এসএসসি পেছানোর কথা ‘চিন্তাই করছে না’ শিক্ষা বোর্ডগুলো

নিজস্ব প্রতিবেদক

ফাইল ছবি

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা পেছানোর দাবি ওঠার কথা শুনে অভিভাবকরা ফোন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তুলে ধরে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি বলেছেন, তারা পরীক্ষা পেছানোর ‘চিন্তাই করছেন না’। ১০ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে সেকেন্ডারি স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষা।

আজ বৃহস্পতিবার শিক্ষা বোর্ডগুলোর মোর্চা আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক খন্দোকার এহসানুল কবির বলেন, পরীক্ষা শুরুর সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। কেন্দ্রে কেন্দ্রে সরঞ্জাম পৌঁছে গেছে।

তার আগে এদিন এসএসসি পরীক্ষা এক মাস পেছানো ও সব পরীক্ষার আগে তিন/চার দিন বিরতি দেওয়ার দাবিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘অসহযোগ আন্দোলনের’ ডাক দিয়ে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠায় পরীক্ষার্থীদের একটি অংশ।

বেলা পৌনে ১০টার দিকে শহীদ মিনারে কয়েকজন পরীক্ষার্থী উপস্থিতও হন। তবে তারা দাবি করেন, ‘তারা ওই আন্দোলন দেখতে’ এসেছেন।

এরপর বিকালে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক খন্দোকার এহসানুল কবি বলেন, কিছু মাধ্যমে পরীক্ষা পেছানোর জন্য শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কথা শুনেছি, কিন্তু এর সত্যতা যাচাই করা যায়নি। পরীক্ষা পেছানোর বিষয়টি তাই আমরা এ মুহূর্তে চিন্তাই করছি না।

তিনি বলেন, শেষ সময়ে এসে এখন পরীক্ষা পেছানো খুব কঠিন। পরীক্ষা এক মাস পেছানো হলে সব কিছু এক মাস পিছিয়ে যাবে। পরীক্ষা পেছালে দেশও পিছিয়ে যাবে। সব পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য পরামর্শ থাকবে ১০ এপ্রিল থেকে পরীক্ষা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার।

এ কর্মকর্তা আরও বলেন, পরীক্ষা পেছানোর দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের খবর প্রকাশিত হওয়ার পর অভিভাবকরা অনেকেই উদ্বিগ্ন হয়ে আমাদের টেলিফোন করে জানতে চেয়েছেন। অভিভাবকদের বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। ১০ এপ্রিল থেকে পরীক্ষা নেওয়ার সব প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে।

শহীদ মিনারে আসা পরীক্ষার্থীরা নিজেদের ‘আন্দোলনকারী’ নয় বলে দাবি করলেও তাদের একজন পরীক্ষা পেছানোর দাবি জানান।

সে পরীক্ষার্থী সংবাদিকদের বলেন, ঈদের যে একটা গ্যাপ, জুলাই আন্দোলনের যে গ্যাপটা ছিল সেখানে আমাদের পড়াশোনার ক্ষতি হয়েছে। পরীক্ষার আর সাত দিন বাকি। ঈদের রেশ এখনও কেটে ওঠেনি। যাদের গ্রামে যাওয়া ম্যান্ডেটরি তারা গ্রামে চলে গিয়েছেন। তাদের ফিরতে ফিরতে ৬-৭ তারিখ, তারা দুই দিনের প্রস্তুতি নিয়ে কীভাবে পরীক্ষা দেবে।

‘সরকার পরিবর্তনের ফলে এসএসসির প্রশ্নপত্রে পরিবর্তন আসছে’ দাবি করে ওই শিক্ষার্থী বলেন, এক ধারায় যে পরীক্ষাগুলো হতো ওই জিনিসগুলো আমরা পাচ্ছি না। আমাদের হিউজ একটা চেঞ্জ আসবে। আমরা ওইটার পরীক্ষা দেব। এতগুলো গ্যাপের পরও শর্ট সিলেবাসে আমাদের পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে না।

যদিও চলতি বছর যে শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবেন তারা পুরনো শিক্ষাক্রমেই নবম-দশম শ্রেণিতে পড়েছেন।

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার এক মাস পার হাওয়ার আগেই গত সেপ্টেম্বরের শুরুতে নতুন শিক্ষাক্রম ‘আর বাস্তবায়নযোগ্য নয়’ জানিয়ে ‘পুরনো শিক্ষাক্রমে ফিরে যাওয়ার’ ঘোষণা দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

তখন প্রথম ব্যাচ হিসেবে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা নতুন শিক্ষাক্রমে পড়াশোনা করছিলেন। চলতি বছর দশম শ্রেণিতে পুরনো শিক্ষাক্রমে ক্লাস শুরু করেছেন তারা। তারা প্রথমবারের মত দশম শ্রেণিতে নতুন পাঠ্যবই হাতে পেয়েছেন, যেগুলো ২০১২ সালে প্রণীত পাঠ্যসূচি অনুযায়ী প্রস্তুত করা হয়েছে।

এ শিক্ষার্থীরা ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেবেন। তাদের জন্য চলতি বছরের শুরুতেই সংক্ষিপ্ত সিলেবাস প্রকাশ করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।

এদিকে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা পেছানোর দাবিকে অযৌক্তিক বলে আখ্যায়িত করেছে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সংগঠন ‘অভিভাবক ঐক্য ফোরাম’।

সংগঠনের সভাপতি মো. জিয়াউল কবির দুলু ও সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিম মিয়া এক যুক্ত বিবৃতিতে ১০ এপ্রিল থেকে সূচি অনুযায়ী নির্ধারিত তারিখে যথাযথ সময়ে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু করার দাবি জানান।

তাদের ভাষ্য, বারবার পরীক্ষার তারিখ ও রুটিন পরিবর্তন করলে পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন এবং এর ফলে পরীক্ষার ফলাফল খারাপ হতে বাধ্য। কতিপয় শিক্ষার্থী পরীক্ষা পেছানোর জন্য অগ্রহণযোগ্য ও অযৌক্তিক দাবি নিয়ে তথাকথিত অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়েছে তা প্রত্যাহার করে পরীক্ষার্থীদেরকে পড়ার টেবিলে ফিরে গিয়ে লেখা পড়ায় মনোনিবেশ করার আহ্বান জানাচ্ছি। খোড়া যুক্তিতে কোনোভাবেই এসএসসি পরীক্ষা পেছানো যাবে না।

আগের মত ফেব্রুয়ারিতে এসএসসি ও এপ্রিলে এইচএসসি পরীক্ষা আয়োজনের দাবি তুলে অভিভাবক নেতারা বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি শিক্ষা উপযোগী হওয়ায় দ্রুত সময়ে সিলেবাস শেষ করে পূর্বের নির্ধারিত তারিখে পরবর্তী সব এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষা গ্রহণের পদক্ষেপ নিতে হবে।

“প্রকৃতিক দুর্যোগ ছাড়া আর কখনোই যাতে কোনো পাবলিক পরীক্ষা পেছানো না হয় সে বিষয়ে শিক্ষা বোর্ডের পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

কোভিড-১৯ মহামারী ও জুলাই-অগাস্ট আন্দোলনে ছাত্রছাত্রীদের অনেক ক্ষতি হলেও শিক্ষা মন্ত্রণালয় সে ঘাটতি পোষানোর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলেও অভিযোগ করা হয় অভিভাবকদের সংগঠনটির পক্ষ থেকে।

শেয়ার করুন