রুশ বাহিনীতে নতুন আরও ১ লাখ ৬০ হাজার সেনা চান পুতিন

মত ও পথ ডেস্ক

রুশ সেনা। ফাইল ছবি

ইউক্রেনে যুদ্ধাবসান বা যুদ্ধবিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান টানাপোড়েনের মধ্যেই নতুন সেনা-সমাবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে রাশিয়া। এবারের সমাবেশের লক্ষ্য রুশ সেনাবাহিনীতে নতুন আরও ১ লাখ ৬০ হাজার সেনার অন্তর্ভুক্তি।

রাশিয়ার বৃহত্তম বার্তাসংস্থা তাসের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, সম্প্রতি একটি ডিক্রিতে স্বাক্ষর করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সেই ডিক্রি অনুসারে, আগামী মঙ্গলবার থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে হবে এই সেনা সমাবেশ এবং এর লক্ষ্য থাকবে রুশ বাহিনীতে অন্তত ১ লাখ ৬০ হাজার নতুন মুখ— যাদের যুদ্ধে যাওয়ার ন্যূনতম যোগ্যতা রয়েছে এবং বয়স ১৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে।

তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে চলছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। পুতিন যে এবারই প্রথম সেনা-সমাবেশের জন্য ডিক্রি জারি করলেন— এমন নয়। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে যুদ্ধ শুরুর কয়েক মাস পরেই প্রথমবারের মতো সেনা-সামবেশ ঘোষণা করে রাশিয়া। প্রথম সমাবেশ থেকে ১৫ হাজারেরও বেশি নতুন মুখকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল সেনাবাহিনীতে। তারপর গত বছর বসন্তকালে ফের সমাবেশ ঘোষণা করা হয় এবং সেবার নিয়োগ দেওয়া হয় ২৫ হাজার নুতন সেনাকে।

তবে এবারের সমাবেশের গুরুত্ব ভিন্ন। কারণ প্রথমত, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটিকে রাশিয়ার বৃহত্তম সমাবেশ বলে গণ্য করা হচ্ছে এবং দ্বিতীয়ত, গত ২০ জানুয়ারি শপথ গ্রহণের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন যে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানকে তিনি অগ্রাধিকার দেবেন।

সেই অনুযায়ী প্রচেষ্টা শুরু করেছিলেন ট্রাম্প। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং ইউক্রেনের সরকারি প্রতিনিধিদের মধ্যে দীর্ঘ বৈঠকও হয়েছে। কিন্তু চলতি সপ্তাহে মস্কো ট্রাম্পের সেই প্রস্তাবে অসম্মতি জানিয়ে বলেছে, যেসব ইস্যুর কারণে এই যুদ্ধ শুরু হয়েছে— ট্রাম্পের প্রস্তাবে সেসব ইস্যুকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি, বরং তিনি শুধু অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির ওপর জোর দিচ্ছেন।

পরশুদিন মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময়মালে ইউক্রেনের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেন, তিনি এ ইস্যুতে পুতিনের ওপর চরমভাবে বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ। ট্রাম্পের এই প্রতিক্রিয়াতেই বোঝা গিয়েছিল যে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধাবসান বা যুদ্ধবিরতির বিষয়টি কার্যত ‘ঝুলে গেছে’।

এমন পরিস্থিতিতেই সেনা সমাবেশ সংক্রান্ত এই ডিক্রি জারি করলেন পুতিন।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ

২০১৫ সালে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে স্বাক্ষরিত মিনস্ক চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ক্রিমিয়া উপদ্বীপকে রুশ ভূখণ্ড হিসেবে ইউক্রেনের স্বীকৃতির প্রদান না করা, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্যপদের জন্য ইউক্রেনের তদবির— প্রভৃতি নানা ইস্যুতে কয়েক বছর টানাপোড়েন চলার পর ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে অভিযান শুরু করে রুশ বাহিনী। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই অভিযানের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

২০২৪ সালে দ্বিতীয় বছরে পা রেখেছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। এই সময়সীমার মধ্যে ইউক্রেনের দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন ও ঝাপোরিজ্জিয়া— চারটি প্রদেশের দখল নিয়েছে রুশ বাহিনী। এই চার প্রদেশের সম্মিলিত আয়তন ইউক্রেনের মোট ভূখণ্ডের এক পঞ্চমাংশ।

এ দুই বছরে বেশ কয়েক বার এই যুদ্ধ বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও তার নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইউক্রেন যদি ক্রিমিয়া, দোনেৎস্ক, লুহানস্ক এবং ঝাপোরিজ্জিয়াকে রুশ ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি দিতে প্রস্তুত থাকে, সেক্ষেত্রে রুশ বাহিনীও অভিযান বন্ধ করবে।

কিন্তু ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি গত বছর এক ডিক্রি জারির মাধ্যমে ঘোষণা করেছন, রাশিয়ায় প্রেসিডেন্ট পুতিন যতদিন ক্ষমতাসীন থাকবেন, ততদিন পর্যন্ত রুশ প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে শান্তি আলোচনায় যাবে না কিয়েভ।

সূত্র : সিএনএন

শেয়ার করুন