উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন বিএনপির অনেক নেতা

বিশেষ প্রতিনিধি

দলীয় সিদ্ধান্ত যা-ই থাকুক তা অমান্য করে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন বিএনপির অনেক নেতা। আগামী ১০ মার্চ শুরু হচ্ছে পঞ্চম উপজেলা নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোট। ৮৭ উপজেলার এ ভোটে বিএনপির অন্তত ২০ জন নেতা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে এদের কেউই প্রত্যাহার করবেন না। বাকি চারটি ধাপের ভোটে অংশ নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন দলটির আরো কয়েক ডজন নেতা। দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচন হবে আগামী ১৮ মার্চ, তৃতীয় ধাপে ২৪ মার্চ, চতুর্র্থ ধাপে ৩১ মার্চ এবং পঞ্চম ধাপে ১৮ জুন।
প্রথম ধাপে যে ৮৭ উপজেলায় ভোট হবে সেগুলো হচ্ছে রংপুর বিভাগের পঞ্চগড়, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও নীলফামারী জেলার সবকটি উপজেলা। ময়মনসিংহ বিভাগের নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলা বাদে বাকি সবগুলো উপজেলা, জামালপুর জেলার সবকটি উপজেলা। সিলেটের সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর বাদে সবকটি উপজেলা, হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা বাদে সব উপজেলা। রাজশাহী বিভাগের সিরাজগঞ্জ জেলার কামারখন্দ উপজেলা বাদে বাকি সবগুলো উপজেলা। জয়পুরহাট জেলার সবকটি উপজেলা, নাটোরের নলডাঙ্গা বাদে বাকি সবকটি উপজেলা এবং রাজশাহী জেলার সবগুলো উপজেলা।
প্রথম ধাপের ৮৭টি উপজেলার মধ্যে ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন ৩২ জন। এদের মধ্যে একজন মারা গেছেন। দল পরিবর্তন করে একজন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে প্রার্থী হয়েছেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন ছয়জন উপজেলা চেয়ারম্যান।
রংপুর বিভাগে পঞ্চগড় সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু দাউদ প্রধান, বোদা উপজেলায় পৌর যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক জাকির হোসেন। দেবীগঞ্জ উপজেলায় উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আবদুল গণি বসুনিয়া এবং উপজেলায় বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোফাখখারুল আলম। নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের জেলা সভাপতি আ ন ম রুহুল ইসলাম।
রাজশাহী বিভাগে বাগমারা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির উপজেলা সভাপতি ডি এম জিয়াউর রহমান। পুঠিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান পদে জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মোখলেসুর রহমান। নাটোর জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম সারওয়ার। বাঘা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মামুন।
সিলেট বিভাগে হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলা চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মঞ্জুর উদ্দিন। আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় যুবদলের সাধারণ সম্পাদক খালেদুর রশিদ। চুনারুঘাট উপজেলায় বিএনপির সভাপতি সৈয়দ লিয়াকত হাসান। মাধবপুর উপজেলায় বিএনপির সভাপতি সৈয়দ মো. শাহজাহান। সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় বর্তমান চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি আনিসুল হক। দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় জেলা বিএনপির সহসভাপতি ফারুক আহমদ। দোয়ারা বাজার উপজেলায় উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. শাহজাহান এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ।
ময়মনসিংহ বিভাগের জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলায় প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবদুর রউফ তালুকদার, নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি সাইদুর রহমান।
দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হওয়ায় দলীয় শাস্তিমূলক কোনো বিষয়কেও গা করছেন না এসব নেতারা। তাদের বিশ্বাস, নিজেদের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও দলের নেতাকর্মীদের ভোটের সঙ্গে আওয়ামী লীগ বিরোধী ভোট নিজের বাক্সে নিতে পারলে অনায়াসে বিজয়ী হওয়া সম্ভব। আর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে দলও তার শাস্তির বিষয়ে বিবেচনা করবে। এমন বোধ থেকেই এসব নেতারা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন।
আর কোনো কারণে যদি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো ভোট হয় তা হলে নির্বাচনের প্রকৃত চিত্র দেশবাসী ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দেখবে, জানবে। এতে করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের যে দাবি তা আরো জোরদার হবে বলেও মনে করেন তারা।
বিষয়টি বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা অবগত থাকলেও এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করছেন না। আনুষ্ঠানিক খোঁজ খবর নিয়ে দলীয় ফোরামে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানান দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
সর্বশেষ ২০১৪ সালে ১৯ ফেব্রুয়ারি ৯৭ উপজেলায় প্রথম ধাপে নির্বাচন হয়েছিল। ২৭ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় ধাপে ১১৭ উপজেলায় ভোট হয়। ওই বছর সব মিলিয়ে সাত ধাপে ভোট হয়। প্রসঙ্গত ১৯৮৫ সালে দেশে প্রথমবার, ১৯৯০ সালে দ্বিতীয়বার ও ২০০৯ সালে তৃতীয়বারের মতো উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে