এরশাদের জানাজায় বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে রংপুরে নিরাপত্তা জোরদার

রংপুর প্রতিনিধি

এরশাদের প্রথম জানাজা সম্পন্ন
এরশাদের প্রথম জানাজা সম্পন্ন

সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জানাজা কেন্দ্র করে রংপুর ও আশপাশের জেলাগুলোতে বিশৃঙ্খলা এড়াতে পুলিশের পক্ষ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা।

রংপুরে ব্যাপক লোক সমাগম ও বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা করছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ। সোমবার রাতে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবদুল আলিম মাহমুদ জানান, জাতীয় পার্টির দুর্গ হিসেবে পরিচিত রংপুরে এরশাদের জানাজা উপলক্ষে ব্যাপক লোক সমাগম হবে এটিই স্বাভাবিক।

বিশৃঙ্খলা হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে যা করা দরকার তাই করা হবে। তবে জানাজা যাতে সুশৃঙ্খলভাবে শেষ হয় এবং শান্তিপূর্ণভাবে সবাই চলে যেতে পারে সে জন্য পুলিশ মোতায়েন থাকবে।

শুধু তাই নয়, রংপুরের ব্যবসায়ীরা মঙ্গলবার দুপুর ২টা পর্যন্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন।

মহানগর দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন জানান, স্যার আমাদের জন্য অনেক করেছেন। আজ তিনি নেই। তার সম্মানে আমরা আধাবেলা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ওষুধ ও খাবার ছাড়া সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।

তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হেলিকপ্টারে করে রংপুর নেয়া হবে সাবেক রাষ্ট্রপতি, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মরদেহ।

জাতীয় পার্টি সূত্র জানায়, এরশাদের মরদেহের সঙ্গে জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের এমপি, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ছেলে রাহগির আল মাহি সাদ এরশাদ, জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা এমপি, সাবেক মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, মেজর (অব.) খালেদ আখতার, আজম খান, এটিইউ তাজ রহমান ও শফিকুল ইসলাম সেন্টু।

মঙ্গলবার বাদ জোহর রংপুর ঈদগাহ মাঠে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের চতুর্থ জানাজা শেষে তার মরদেহ হেলিকপ্টারে করে আবার ঢাকায় নিয়ে আসা হবে। বাদ আসর সামরিক কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হবে।

এদিকে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের দাবি, তাদের প্রিয় নেতাকে রংপুরেই দাফন করা হোক। তারা সেখানে কবরের জায়গাও নির্ধারণ করে রেখেছেন।

কিন্তু দলের সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা রওশন এরশাদ জানিয়েছেন, ‘বনানী সামরিক কবরস্থানে দাফনের ইচ্ছা এরশাদ সাহেব নিজেই প্রকাশ করে গেছেন।’

দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেন, ‘আমাকেও তিনি একই কথা বলে গেছেন। রাতে দলের পক্ষ থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বনানী সামরিক কবরস্থানেই এরশাদকে দাফন করা হবে।

এদিকে রংপুর ব্যুরো জানিয়েছে, এরশাদের দাফন প্রসঙ্গে তারা জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের কাছে জানতে চান। তিনি (জিএম কাদের) বলেছেন, আমরা উনার (এরশাদ) শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী ঢাকার বনানী সেনানিবাসের কবরস্থানে সমাহিত করার প্রস্তুতি নিয়েছি।

তিনি একজন জাতীয় নেতা। তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বিষয়টি রংপুরের নেতাকর্মীদের আবেগের ঊর্ধ্বে থেকে দেখা উচিত।

সেখানে তিনি সেনাবাহিনীপ্রধান হিসেবে শুধু নন একজন জাতীয় নেতা হিসেবে সম্মান পাবেন। সেনাবাহিনীও তার সমাধি বা কবরস্থান সেনাপ্রধান হিসেবে মর্যাদার সঙ্গে দেখবে। তার জন্য আলাদা সম্মান থাকবে।

তিনি যেহেতু পার্টির নেতা ছিলেন, গণমানুষের নেতা হিসেবে তাদের প্রাণের মানুষ ছিলেন। সে কারণে আমি মনে করি যারা জাতীয় পার্টির নেতাকর্মী তারা সেখানে গিয়েও তাকে সম্মান জানাতে পারবেন। কবর যেখানেই থাক ভালোবাসা থাকলে দূরত্ব কোনো বিষয় নয়।

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here