দুর্নীতির সঙ্গে পাল্লায় টিকতে পারছে না উন্নয়ন : রাষ্ট্রপতি

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ
ফাইল ছবি

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ মনে করেন, দেশের প্রবৃদ্ধি বেড়েছে, উন্নয়নও ব্যাপক হারে হচ্ছে, তবে দুর্নীতি যে রূপ নিয়েছে তাতে উন্নয়ন টিকতে পারছে না। এজন্য দুর্নীতিকে এখনই রুখে দাঁড়াতে হবে বলে মনে করেন তিনি। সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে বলেও জানান রাষ্ট্রপ্রধান।

আজ বুধবার বিকালে কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে এক সমাবেশের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।  স্বাধীনতা ভাস্কর্য ৭১ উদ্বোধন উপলক্ষে তাড়াইল মুক্তিযোদ্ধা সরকারি কলেজ মাঠে স্থানীয় নাগরিক কমিটি এই সুধী সমাবেশের আয়োজন করে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, যে হারে দেশের প্রবৃদ্ধি বাড়ছে, অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো হচ্ছে, কিন্তু দুর্নীতির সাথে পাল্লা দিয়ে টিকতে পারছে না। এজন্য দুর্নীতিকে এখনই থামাতে হবে। এটা যেই হোক।

সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের প্রশংসা করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার একটি ভালো উদ্যোগ নিয়েছে সমাজ থেকে দুর্নীতি উচ্ছেদ করার জন্য। আমিও মনে করি, এটি খুব ভালো ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন, তার নিজের ঘর থেকে শুরু করতে হবে। ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগ বলুন অর্থাৎ যে যে দলই করুক না কেন, দুর্নীতি যে করবে তাদেরকে কোনো ছাড় দেয়া হবে না।

১৯৭০ সালে প্রথম নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ী হওয়া প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকা ছিল ইটনা, অষ্টগ্রাম, নিকলী ও তাড়াইল এই চারটি থানা। মিঠামইন তখন পূর্ণাঙ্গ থানা হয়নি। আমি ভোটের দিকে চার থানার মধ্যে তাড়াইলের প্রথম হয়েছিলাম।সুতরাং তাড়াইলের সাথে আমার আলাদা একটি সম্পর্ক রয়েছে। সারাজীবন এটা আমার মনে আছে এবং মনে থাকবে।

আবদুল হামিদ বলেন, বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে আমি সবার সহযোগিতা পেয়েছি। শুধু আওয়ামী লীগ নয়, সব দলের মানুষের সহযোগিতা পেয়েছি।

কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনের জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য সাবেক প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নুর সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনের সংসদ সদস্য মো. আফজাল হোসেন, জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী, পুলিশ সুপার মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ আফজল, সিনিয়র যুগ্মসাধারণ সম্পাদক পিপি শাহ আজিজুল হক, তাড়াইল উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. জহিরুল ইসলাম ভূঞা শাহীন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন লাকী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে রাষ্ট্রপতি ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারযোগে নিজ জেলা কিশোরগঞ্জে আসেন। এক সপ্তাহের সফরের প্রথম দিনে দুপুর আড়াইটার দিকে তিনি তাড়াইলে আসেন। হেলিপ্যাড থেকে তিনি উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে যান। সেখানে তাকে গার্ড অব অনার দেয়া হয়। পরে তিনি উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে নবনির্মিত স্বাধীনতা ‘৭১ ভাস্কর্য উদ্বোধন করেন।

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here