লেবানন থেকে দেশে ফিরছেন ১৪৪ অবৈধ প্রবাসী

প্রবাস ডেস্ক

লেবানন থেকে দেশে ফিরে আসছেন সিকিউরিটি জেনারেল থেকে ভিসা পাওয়া অবৈধ ১৪৪ বাংলাদেশি শ্রমিক। শনিবার দেশে ফেরার আবেদনকারী ১৪৪ জন ভিসা পাওয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আবদুল মোতালেব সরকার তাদের হাতে বিমান টিকিট তুলে দেন।

আগামী মঙ্গল ও বুধবার কাতার এয়ারলাইন্সের দুটি ফ্লাইটে তারা দেশের উদ্দেশে রওয়ানা হবেন।

গত শুক্রবার দূতাবাসের জরুরি নোটিশে লেবানন থেকে দেশে ফেরত যাওয়ার আবেদনকারী ভিসা পাওয়া সিরিয়ালধারী মোট ১৪৪ জনকে দূতাবাসে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে বিমান টিকিট সংগ্রহ করার অনুরোধ জানানো হয়।

এ সময়ের মধ্যে যারা টিকিট সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হবে তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে দূতাবাসের কোনো দায়দায়িত্ব থাকবে না বলেও জানানো হয় নোটিশে।

তবে সিকিউরিটি জেনারেল থেকে ভিসা পাওয়া ১৪৪ জনের মধ্য থেকে ১৬ জনকে বারবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদেরকে অতিসত্বর দূতাবাসে যোগাযোগ করে দেশে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়।

গত ১৫, ১৬ ও ১৭ সেপ্টেম্বর লেবাননের বাংলাদেশ দূতাবাসে অবৈধ প্রবাসীদের শুধু এক বছরের জরিমানা ও বিমান টিকিট কিনে দেশে ফেরার সুযোগে আবেদন জমা করা হয়। পুরুষদের জন্য ২৬৭ মার্কিন ডলার ও নারীদের জন্য ২০০ মার্কিন ডলার জরিমানা ও বিমান টিকেটসহ আবেদন ফরম জমা করা হয়।

৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় দূতাবাসে সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন লেবাননে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আব্দুল মোতালেব সরকার। সেই সময় এই কর্মসূচি ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চালু থাকবে এবং তিনটি ধাপে প্রবাসীরা আবেদন করতে পারবেন বলে জানিয়েছিলেন রাষ্ট্রদূত ।

তাছাড়া সেপ্টেম্বরে যারা আবেদন করতে পারবে না, আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বরে তারা এই সুযোগ নিয়ে আবার আবেদন করতে পারবেন বলেও জানানো হয়।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘লেবাননে উচ্চ পর্যায়ে দীর্ঘদিন আলোচনায় অনেক কষ্ট ও পরিশ্রমের মাধ্যমে দূতাবাস এই সুযোগটির ব্যবস্থা করেছে। ফলে প্রবাসীরা কোনোরকম জেল ও বড় অংকের জরিমানা ছাড়াই দেশে ফেরতের সুযোগ পাচ্ছেন। তবে যাদের নামে চুরি, মাদক ও ফৌজদারি মামলা বা লেবাননের আদালতে পরোয়ানা রয়েছে- তারা এই কর্মসূচির আওতায় পড়বেন না। যাদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ রয়েছে, তারা যদি দেশে ফেরত যেতে দূতাবাসের সাহায্য কামনা করেন, তাহলে হাতে নেয়া কর্মসূচি শেষ হলে দূতাবাসের পক্ষ থেকে তাদের সহযোগিতা দেয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘লেবাননের আইন অনুযায়ী দূতাবাসের মাধ্যমে জেনারেল সিকিউরিটি থেকে ক্লিয়ারেন্স গ্রহণ করতে হয়। তাই যারা দেশে যাবার জন্য আবেদন করবেন, ক্লিয়ারেন্স পাবার পর তাদের অবশ্যই দেশে ফেরত যেতে হবে। অন্যথায় লেবাননের জেনারেল সিকিউরিটি তাদের বিরুদ্ধে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’ সে ক্ষেত্রে দূতাবাসের করণীয় কিছু থাকবে না বলেও তিনি সাফ জানিয়ে দেন।

শেয়ার করুন
  • 3
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    3
    Shares

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে