নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে রাসায়নিক অস্ত্রের মজুদ করছে মিয়ানমার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মিয়ানমারে রাসায়নিক অস্ত্র মজুদ থাকার অভিযোগ তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি চার দশক ধরে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করেই এমন অস্ত্র মজুদ করছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

গত সোমবার নেদারল্যান্ডের হেগে রাসায়নিক অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণ সংস্থা বা ওপিসিডব্লিউর সদর দপ্তরে এ তথ্য জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের উপ-সহকারী সচিব থমাস দিনান্নো। খবর দ্য জাপান টাইমসের।

থমাস দিনান্নো বলেন, মিয়ানমারে ঐতিহাসিকভাবে রাসায়নিক অস্ত্রের মজুদ থাকতে পারে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটি এখনও মাস্টার্ড গ্যাস উৎপাদন করে আসছে।

রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশনে (সিডাব্লুসি) আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরকারী ১৯১তম রাষ্ট্র মিয়ানমার। ১৯৯৭ সাল থেকে মিয়ানমারে রাসায়নিক অস্ত্র রয়েছে কিনা তা ওপিসিডব্লিউ দ্বারা তদারকি করার কথা। আর সিডাব্লুসিতে স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে ২০১৫ সাল থেকে মিয়ানমারে রাসায়নিক অস্ত্রের উৎপাদন, সঞ্চয় এবং ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকার কথা।

তবে ওয়াশিংটনের তথ্য বলছে, আশির দশকে মিয়ানমারের রাসায়নিক অস্ত্রের একটি কার্যক্রম ছিল। সেখানে ভারী সালফার উন্নয়নসহ রাসায়নিক অস্ত্র উৎপাদনের সুবিধা ছিল।

আর এ বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, যথেষ্ট তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে তার দেশ প্রত্যয়ন করছে যে, মিয়ানমার তাদের রাসায়নিক অস্ত্রের কার্যক্রম নিষিদ্ধের বিষয়ে ঘোষণা দিতে এবং রাসায়নিক অস্ত্র উৎপাদন সুবিধা ধ্বংস করতে ব্যর্থ হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশটি রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধের আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে।

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে রাসায়নিক অস্ত্র সংরক্ষণ ও ব্যবহারের অভিযোগ নতুন নয়। এর আগে ২০১৩ সালে একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, দেশটির বাহিনী উত্তরের একটি তামার খনিতে বিক্ষোভকারীদের দমাতে ফসফরাস গ্যাস ব্যবহার করেছিল। একারণে বিক্ষোভকারীরা গুরুতর দগ্ধ হয়েছিলেন।

পরের বছরের জুলাইয়ে মিয়ানমার পাঁচ সাংবাদিককে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেয়। তারা সামরিক বাহিনীর রাসায়নিক অস্ত্র উৎপাদন করার ব্যাপারে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছিলেন।

থমাস দিনান্নো বলেন, ইস্যুটি নিয়ে মিয়ানমারের বেসামরিক সরকার ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করেছে ওয়াশিংটন। অস্ত্র ধ্বংস করতে মিয়ানমারকে সহায়তা করার জন্য প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র।

তারও আগে ২০০৫ সালে লন্ডনভিত্তিক হিউম্যান রাইটস গ্রুপ ক্রিশ্চিয়ান সলিডারিটি ওয়ার্ল্ডওয়াইড অভিযোগ এনেছিল, সংখ্যালঘু কারেন সম্প্রদায়ের বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা। মিয়ানমারের তৎকালীন আধা-বেসামরিক সরকার কাচিনে জাতিগত সংখ্যালঘুদের ওপর রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহারের কথা বরাবরের মতো অস্বীকার করে।

এদিকে রাসায়নিক অস্ত্রে মজুদের বিষয়ে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগটি এমন সময়ে এসেছে, যখন রোহিঙ্গা ইস্যুতে দেশটি ক্রমাগত আন্তর্জাতিক চাপের মুখোমুখি হচ্ছে।

সম্প্রতি রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যার দায়ে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে নেদারল্যান্ডসের হেগে জাতিসংঘের অপরাধ আদালতে মামলা করেছে আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া। ডিসেম্বরে শুনানি হতে যাওয়া সেই মামলায় মিয়ানমারের ডি-ফ্যাক্টো নেত্রী কার্যত সরকারপ্রধান অং সান সু চি নিজ দেশের হয়ে লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

শেয়ার করুন
  • 5
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    5
    Shares

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে