বাস্তবভিত্তিক এবং প্রায়োগিক শিক্ষার ওপর জোর দিতে হবে : রাষ্ট্রপতি

মত ও পথ প্রতিবেদক

খ্যাদ্যে ভেজাল নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেছেন, খাদ্যে ভেজালের কারণে ক্যান্সারসহ জটিল রোগ হচ্ছে। নির্ভেজাল খাবার ক্রমেই দুষ্প্রাপ্য হয়ে যাচ্ছে। এখন কচু ছাড়া সব কিছুতেই ফরমালিন।

আজ রোববার বিকালে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-রুয়েটের পঞ্চম সমাবর্তনে যোগ দিয়ে রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য একথা বলেন।

ছাত্রদের খাদ্য ভেজাল না দেয়ার জন্য ক্যাম্পেইন করার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, মানুষকে বোঝাতে হবে এসব করা ঠিক না। মানুষ যে নির্ভেজাল কিছু খাবে এটা এখন দুষ্প্রাপ্য হয়ে গেছে। আমি ৮০-৮৫ দেশে ঘুরেছি। কিন্তু কোন দেশে খাদ্যে এরকম ভেজাল দেয় না। পৃথিবীর মধ্যে আমরাই একটি দেশ যারা এ ব্যাপারে চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেছি। মানুষকে সচেতন হতে হবে।

আবদুল হামিদ আরও বলেন, কলকাতার হাসপাতালগুলোতে বাংলাদেশের ৮০ শতাংশ রোগী। কেনো এরকম হচ্ছে? খালি কথা বললেই হবে না। যাতে আমরা সঠিক রাস্তায় আসতে পারি তার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।

যুগের সাথে তাল মিলিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থা পরিবর্তিত হচ্ছে কাজেই আমাদেরকে বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাস্তবভিত্তিক এবং প্রায়োগিক শিক্ষার ওপর জোর দিতে হবে। পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি গবেষণা ও হাতে-কলমে শিক্ষার মাধ্যমেই প্রকৃত শিক্ষা অর্জিত হয়। এ জন্য গবেষণা ও ল্যাবরেটরি কর্মের ওপর অধিক মনোনিবেশ করা জরুরি।

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবকে মাথায় রেখে ন্যানো টেকনোলোজি, রোবোটিক্স, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের মতো বিষয়গুলোকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়ার তাগিদ দিয়ে আবদুল হামিদ বলেন, শিক্ষা যাতে দেশের কল্যাণে, মানবতার কল্যাণে, ব্যবহৃত হয় সেদিকে সজাগ দৃষ্টি দিতে হবে। এই ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সকলে উদ্যোগী হবেন বলে আমার বিশ্বাস।

তিনি বলেন, প্রযুক্তি উন্নয়নের বাহন তাই বলে প্রযুক্তির উদ্ভাবনই যথেষ্ট নয়। প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে দেশ ও জনগণের উন্নয়ন করার মধ্যেই উদ্ভাবনের সার্থকতা। অন্যের অনুকরণ নয় বরং আমাদেরকে যাতে অন্যরা অনুকরণ করতে পারে সে লক্ষ্যে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে।

সমাবর্তনে গ্রাজুয়েটদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কেবল চ্যান্সেলর হিসেবে নয়, আমি তোমাদের গুরুজন হিসাবে বলতে চাই, উচ্চশিক্ষা শেষে শুধু একটা ভালো চাকরি পাওয়াই জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য হতে পারে না। শিক্ষার উদ্দেশ্য হচ্ছে নিজে শিক্ষিত হওয়া ও অন্যকে শিক্ষিত করা এবং বৃহৎ মানবতার কল্যাণ করা।

রাষ্ট্রপতি বলেন, তাই ব্যক্তি স্বার্থের উর্ধ্বে উঠে মানবসত্ত্বা দিয়ে দেশকে আলোকিত করবে, বিশ্বকেও সে আলোর আভায় রাঙিয়ে তুলবে। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ভাসিত হয়ে তোমরা সমাজের সকল অন্ধকার দূর করে আলোর পথে এগিয়ে যাও।

এ সময় শীতকালে সমাবর্তন করার জন্য সারাদেশের ভিসিদের ধন্যবাদ জানান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।

এর আগে দুপুর আড়াইটায় সমাবর্তন শোভাযাত্রা সহকারে রাষ্ট্রপতি সমাবর্তনের অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করেন। সেখানে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও পবিত্র

শেয়ার করুন
  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    2
    Shares

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে