করোনা ঝুঁকি: গার্মেন্টস বন্ধ রাখার অনুরোধ বিজিএমইএ’র

মত ও পথ প্রতিবেদক

মহামারি করোনাভাইরাসের ঝুঁকি মাথায় নিয়ে হাজারও শ্রমিক যখন চাকরি বাঁচানোর জন্য ঢাকামুখি তখন পরিস্থিতি বিবেচনা করে আগামী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত গার্মেন্টস বন্ধ রাখতে অনুরোধ জানিয়েছেন তৈরি বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি রুবানা হক।

শনিবার রাত পৌনে ১০টায় সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো এক অডিও বার্তায় রুবানা হক বলেন, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে আগামী ১১ তারিখ পর্যন্ত কারখানা বন্ধ রাখার জন্য সকল কারখানার মালিক ভাই ও বোনদের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।

এর কিছুক্ষণ আগে নিট গার্মেন্টস ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফেকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) পক্ষ থেকে আগামী ১০ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি বাড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

পায়ে হেঁটে, রিকশা-ভ্যানে করে দেশের নানা প্রান্ত থেকে শুক্র ও শনিবার শ্রমিকরা স্রোতের মতো ঢাকায় এসেছেন। যেখানে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ওপর সর্বাধিক জোর দেয়া হচ্ছে সেখানে পোশাক শ্রমিকরা অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে ঢাকায় ফিরছেন। এটা গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যখন সমালোচনা হচ্ছে তখন অনেকটা নাটকীয়ভাবে পোশাক কারখানা বন্ধ রাখার আহ্বান জানালেন বিজিএমইএ সভাপতি।

যদিও এর আধা ঘণ্টা আগে অপর এক অডিও বার্তায় রুবানা হক জানিয়েছিলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে চলমান ছুটির সময়ে আন্তর্জাতিক কাজের অর্ডার থাকলে পোশাক কারখানা খোলা রাখতে পারবেন মালিকরা। তবে এ ক্ষেত্রে অবশ্যই শ্রমিকদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে।

রোববার থেকে পোশাক কারখানা খোলা থাকবে কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, করোনা মহামারির এই সময়ে শিল্প প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার বিষয়ে কলকারখানা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর থেকে একটি নির্দেশনা দিয়েছে, সেখানে স্পষ্ট লেখা আছে যে সমস্ত রপ্তানিমুখি শিল্পে আন্তর্জাতিক ক্রয়াদেশ আছে এবং যারা করোনার সরঞ্জামাদি, মাস্ক, চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) সহ করোনাপ্রতিরোধী সামগ্রী তৈরি করছে এমন কারখানাগুলো তাদের শ্রমিকদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করে খোলা রাখতে পরবে। তাই আমাদের প্রধান দায়িত্ব কীভাবে শ্রমিকদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা দেবো।

তিনি বলেন, মার্চ মাসের বেতন নিয়ে কোনো অনীহা থাকা যাবে না। মার্চ মাসের বেতন শ্রমিকরা পাবেনই-এটা নিশ্চিত করতে চাই।

গণপরিবহন বন্ধ রয়েছে, এছাড়া বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় বিষয়ে রুবানা হক বলেন, এ সময়ে শ্রমিক কোনো কারণে কারখানায় উপস্থিত না থাকলে মানবিক বিবেচনায় তার চাকরিটি হারাবেন না। এটি আমাদের বিজিএমইএর প্রত্যেকটি সদস্যের কাছে অনুরোধ করবো। আমি আশা করি পোশাক মালিকরা এটি শুনবেন।

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে