জীবন ও জীবিকা সুরক্ষিত হোক

জীবন নাকি জীবিকা, এমন প্রশ্নে বিশ্বজুড়ে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো হাঁটছে দুটোকে প্রাধান্য দিয়েই। অর্থনীতির ধরন কিছুটা আলাদা হওয়ায় দ্বিমুখী এই সংকট মোকাবিলার পথ খুঁজছে বাংলাদেশও। এমন বাস্তবতায় আসছে ঈদকে কেন্দ্র করে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।যদিও লকডাউনের শুরু থেকেই সীমিত আকারে চালু রাখা হয়েছে ব্যাংকিং কার্যক্রমও। এদিকে প্রতিদিনই বাড়ছে করোনা আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে সীমিত আকারে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে।কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে- করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে সারা দেশে চলমান অঘোষিত লকডাউনের মধ্যে দেশের অর্থনীতি স্থবির হয়ে যাওয়ায় লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হারানোর শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন অবস্থায় সরকারকে মানুষের জীবন ও জীবিকা উভয়ের ওপর খেয়াল রাখতে হচ্ছে।

অন্যদিকে অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা করছেন, চলমান স্থবিরতা অনানুষ্ঠানিক খাতে নিযুক্ত লাখ লাখ মানুষের জীবিকার ওপর ব্যাপকভাবে প্রভাব ফেলবে, যা অর্থনীতির ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করবে। স্বল্প আয়ের মানুষ, বিশেষত দিন এনে দিন খাওয়া মানুষ, রিকশা চালক, পরিবহন শ্রমিক, হকার, রেস্তোরাঁ ও দোকানের কর্মচারী এবং নির্মাণ শ্রমিকরা এরই মধ্যে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

করোনার এই বৈশ্বিক মহামারিতে জনজীবনে নেমে এসেছে নানামুখী সংকট। অভ্যন্তরীণ অর্থের লেনদেন কিংবা পণ্যের আমদানি রপ্তানি সীমিত হওয়ায় বিপাকে সামগ্রিক অর্থনীতিও। দীর্ঘসময় ধরে বাণিজ্যের প্রায় ৮০ শতাংশ বন্ধ থাকায় উপার্জনহীন বহু মানুষ। আমরা আশা করব- সামনে আসা সংকট মোকাবিলায় কৌশলী হবে সরকার। একই সঙ্গে খাদ্য ও স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করবে। তারপরে, অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনা। স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।আমরা মনে করি- জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্বাভাবিক করা যাবে।

আশার খবর জীবন ও জীবিকা বাঁচাতে ইতোমধ্যে সরকার দরিদ্রদের নগদ প্রণোদনা প্রদান, ত্রাণ বিতরণ ও অর্থনীতির বিভিন্নখাতে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। আমরা আশা করি- এই প্যাকেজগুলো বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করবে। এবং একই সঙ্গে সামনের দিনে উদ্ভুত পরিস্থিতি অনুযায়ী কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

আমরা সমাজের বিত্তবানদের আহ্বান জানাব- সরকারের পাশাপাশি আপনারাও এগিয়ে আসুন।কারণ এই সময়ে মানুষের জীবন বাঁচানোটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।একই সঙ্গে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বানও জানাচ্ছি। আশা করি- বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা নেতৃত্বে চলমান সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াবে দেশ ও দেশের সাধারণ জনগণ।

শেয়ার করুন
  • 73
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    73
    Shares

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে