ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্রিটেনের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ব্রেক্সিট-পরবর্তী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্থির করতে তৃতীয় দফার আলোচনাও ব্যর্থ হবার পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও ব্রিটেনের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে গেছে৷ কূটনৈতিক শিষ্টাচারের বদলে খোলা চিঠির মাধ্যমে একে অপরকে দোষারোপ করছে দুই পক্ষ৷

ব্রিটেনের ব্রেক্সিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ডেভিড ফ্রস্ট এক চিঠিতে ইইউর বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ এনেছেন৷ ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান মধ্যস্থতাকারী মিশেল বার্নিয়ে পালটা চিঠিতে ব্রিটেনকে এমন মনোভাব সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছেন৷ খবর ডয়চে ভেলের।

ব্রিটেন মঙ্গলবার ইইউর বিরুদ্ধে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির ক্ষেত্রে বাড়তি, ভারসাম্যহীন ও অভূতপূর্ব’দাবির অভিযোগ করেছিল৷ ডেভিড ফ্রস্ট এই চিঠির সঙ্গে চুক্তির এক খসড়া প্রকাশ করেন৷ তিনি এ প্রসঙ্গে অন্যান্য দেশের সঙ্গে ইইউর বাণিজ্য চুক্তির কিছু অংশ তুলে ধরে দাবি করেন, যে ইইউ ব্রিটেনকে একই রকম সুবিধা দিতে রাজি নয়৷ ব্রিটেন কেন একইরকম সুবিধা পাবার যোগ্য নয়, সেই প্রশ্ন তোলেন ফ্রস্ট৷ তার মতে, দুই ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সহযোগীর মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য সম্পর্কের বদলে নিম্ন মানের এক বাণিজ্য চুক্তির প্রস্তাব রেখেছে ইইউ৷

ইইউ শুরু থেকেই ভৌগলিক অবস্থানের প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ করে ভবিষ্যৎ সম্পর্কের কাঠামোর কিছু পূর্বশর্ত স্থির করেছে৷ ব্রিটেন ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হবার কারণে ইইউ নিজস্ব স্বার্থ রক্ষা করতে কিছু বাড়তি রক্ষাকবচ স্থির করেছে৷

বার্নিয়ে তার চিঠিতে ব্রিটেনের আচরণের কড়া সমালোচনা করেন৷ তার মতে, আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ মেটানোর বদলে চিঠির মাধ্যমে তর্জনগর্জন করলে আখেরে কোনো লাভ হবে না৷ বিশেষ করে ফ্রস্ট যে সুরে অভিযোগ পেশ করেছেন, তা পারস্পরিক আস্থা ও গঠনমূলক মনোভাবের পরিপন্থি৷

বার্নিয়ে তিন পৃষ্ঠার চিঠিতে ফ্রস্টের প্রতিটি অভিযোগের আলাদা করে জবাব দেন৷ তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে ব্রিটেনকে নিজ দায়িত্বে বিভিন্ন সম্ভাবনার মধ্যে কোনো একটিকে বেছে নিতে হবে৷ অন্য দেশ যে সব সুবিধা পেয়েছে, ব্রিটেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেসব সুবিধার দাবি করতে পারে না৷ বার্নিয়ে আরও মনে করিয়ে দেন যে, ব্রিটেন ও ইইউর শীর্ষ নেতারা ভবিষ্যৎ সম্পর্কের রূপরেখা হিসেবে যে রাজনৈতিক ঘোষণাপত্র স্বাক্ষর করেছিলেন, ইইউ পুরোপুরি তার ভিত্তিতেই ব্রিটেনের সঙ্গে আলোচনা করছে৷

লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে বৈষম্য এড়ানোর বিষয়টিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ প্রকট হয়ে উঠছে৷ ব্রিটেন ইইউ ত্যাগ করার প্রধান সুবিধা হিসেবে অন্যান্য দেশের সঙ্গে স্বাধীনভাবে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে৷ ইইউর সঙ্গেও নিজস্ব সুবিধা অনুযায়ী বাণিজ্যিক চুক্তি চায় বরিস জনসনের সরকার৷

অন্যদিকে ইইউ বাণিজ্য চুক্তির শর্ত হিসেবে নিজস্ব অভ্যন্তরীণ বাজার অটুট রাখতে কিছু রক্ষাকবচ নিশ্চিত করতে চাইছে৷ ইইউর বাজারের নাগাল পেতে হলে ব্রিটেনকে শ্রম, পরিবেশ ইত্যাদি মানদণ্ড মেনে চলতে হবে এবং বেশ কিছু বিধিনিয়মও স্বীকার করতে হবে৷ অর্থাৎ ব্রিটেন দুই নৌকায় পা রেখে এগোতে পারবে না, এমনটাই নিশ্চিত করতে চাইছে ইইউ৷

চলতি বছর দুই পক্ষের মধ্যে বোঝাপড়া না হলে ২০২১ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে ব্রিটেন বিশেষ সুবিধা হারিয়ে বিশ্বের বাকি দেশের মতো ইইউর সঙ্গে বাণিজ্য করতে বাধ্য হবে৷

শেয়ার করুন
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    1
    Share

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে