বন্ধ হয়ে গেল স্টার সিনেপ্লেক্স

বিনোদন প্রতিবেদক

বরাবরের জন্য বন্ধ করে দেয়া হল দেশের সবচেয়ে বড় সিনেমা হল বসুন্ধরা শপিং মলের স্টার সিনেপ্লেক্স। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এর বিপণন ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মেসবাহ উদ্দীন আহমেদ মঙ্গলবার দুপুরে এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানিয়েছেন, আর কখনোই খুলবে না বাংলাদেশের সিনেমা ব্যবসার সবচেয়ে বড় ও অত্যাধুনিক প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরার স্টার সিনেপ্লেক্স।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে গত ২০ মার্চ থেকে বন্ধ দেশের সব সিনেমা হল। বন্ধ ছিল সব ধরনের শুটিংও। কিন্তু রোজার ঈদের আগ দিয়ে নাটক-সিনেমাসহ সব ধরনের শুটিং অল্প বিস্তারে চালু হলেও সিনেমা হলগুলোর তালা এখনো খোলেনি। ফলে স্টার সিনেপ্লেক্স যে একেবারেই বন্ধ হয়ে যেতে পারে, সেই আভাস আগেই দেয়া হয়েছিল।

গত ১২ আগস্ট সংবাদ সম্মেলন করে স্টার সিনেপ্লেক্সের চেয়ারম্যান মাহবুব রহমান রুহেল বলেছিলেন, করেনোর কারণে দীর্ঘদিন সিনেমা হল বন্ধ থাকায় বাংলাদেশের সিনেমা ব্যবসায় মারাত্মক ধস নেমে এসেছে। এমতাবস্থায় সরকারি সহায়তা না পেলে তাদের সামনে স্টার সিনেপ্লেক্স বন্ধ করে দেয়া ছাড়া আর কোনো পথই খোলা থাকবে না।

সেসময় সরকারের কাছে পাঁচটি দাবি তুলে ধরেন রুহেল। সেই দাবিগুলো মধ্যে ছিল স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনতিবিলম্বে সিনেমা হলগুলো খুলে দেয়া, জরুরি আর্থিক সহায়তা বা প্রণোদনা ঘোষণা করা, সিনেমা হলের টিকিটের সব ধরনের মূসক ও কর মওকুফ করা, সুদবিহীন ঋণ প্রদানের অনুমোদন দেয়া এবং শর্তহীনভাবে বিদেশি চলচ্চিত্র আমদানির অনুমতি দেয়া।

পাশাপাশি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক সমিতি ও স্টার সিনেপ্লেক্স আছে এমন তিনটি শপিংমল কর্তৃপক্ষের কাছে আরও দুটি দাবি করেন রুহেল। প্রযোজক সমিতির কাছে তিনি দাবি করেন, সেন্সর পাওয়া সিনেমাগুলো শিগগিরই মুক্তি দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। শপিংমল কর্তৃপক্ষের কাছে তার দাবি ছিল, করোনাকালীন পরিস্থিতিতে স্টার সিনেপ্লেক্সের প্রতিটি শাখার ভাড়া মওকুফ করতে হবে এবং অবস্থা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অর্ধেক ভাড়া নিতে হবে।

কিন্তু রুহেলের দাবি মানেননি বসুন্ধরা শপিং মল কর্তৃপক্ষ। উল্টো তারা জায়গা ছেড়ে দেয়ার নোটিশ দেয় স্টার সিনেপ্লেক্স কর্তৃপক্ষকে। এদিকে সরকারের পক্ষ থেকেও এখনো পর্যন্ত কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা পাননি। যার কারণে বসুন্ধরা শাখার স্টার সিনেপ্লেক্স বরাবরের জন্য বন্ধ করে দিতে হচ্ছে তাদের।

এ প্রসঙ্গে স্টার সিনেপ্লেক্সের বিপণন ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মেসবাহ উদ্দীন বলেন, বেদনাদায়ক হলেও সত্য যে বসুন্ধরা সিটিতে আর স্টার সিনেপ্লেক্স থাকছে না। কারণ কর্তৃপক্ষ আমাদের নোটিশ দিয়েছে সিনেপ্লেক্স বন্ধ করার জন্য। তাদের নতুন পরিকল্পনা রয়েছে শপিংমল নিয়ে। বাড়িওয়ালা যদি নোটিশ দেন চলে যাওয়ার, তাহলে তো ভাড়াটিয়ার কিছু করার থাকে না। তবে আমাদের অন্য শাখাগুলো চালু থাকবে।

তিনি বলেন, বসুন্ধরা সিটি দিয়েই আমরা যাত্রা করেছিলাম। ১৮টি বছর কেটেছে এখানে। দেশ-বিদেশের অনেক বড় বড় তারকা, গুণী মানুষেরা এখানে পা রেখেছেন। চলচ্চিত্র সাংবাদিকরা এই আঙিনাটি মুখরিত করে রাখতেন আড্ডায়। অনেক অনেক স্মৃতি আসলে। দেশের মানুষ সিনেপ্লেক্স বলতে এই শপিংমলের স্টার সিনেপ্লেক্সকে বুঝতো। এমন একটি ভালোবাসার ঠিকানা বদলে ফেলা আমাদের জন্যও খুব কষ্টের এবং আবেগের।

২০০২ সালে বসুন্ধরা সিটি শপিংমলে যাত্রা শুরু করে দেশের প্রথম ডিজিটাল এবং অত্যাধুনিক সুবিধা সংবলিত সিনেমা হল স্টার সিনেপ্লেক্স। ১৮ বছর ধরে বসুন্ধরায় এই সিনেপ্লেক্স সাফল্যের সঙ্গে ব্যবসা করে যাচ্ছিল দেশি-বিদেশি সিনেমা প্রদর্শন করে। এটি বন্ধ হওয়ায় মহাখালীর এসকেএস টাওয়ারে এবং ধানমন্ডির সীমান্ত সম্ভার শপিংমলে সিনেপ্লেক্সের দুটি শাখা চালু আছে।

পাশাপাশি চট্টগ্রাম শহরে ষোলশহর ফিনলে স্কয়ার শপিংমলের সপ্তম তলায় ‘সিলভার স্ক্রিন’ নামে আরও একটি শাখা চালু আছে স্টার সিনেপ্লেক্সের। এর বাইরে মিরপুরের সনি সিনেমা হল ভেঙে যে শপিংমল করা হচ্ছে সেখানে একটি শাখা চালু করতে যাচ্ছে স্টার সিনেপ্লেক্স। শিগগিরই দেশের আরও বেশ কিছু শহরে শাখা চালুর কথাও ভাবছে এই প্রতিষ্ঠানটি।

শেয়ার করুন
  • 5
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    5
    Shares

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে