ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কে আরবরা: জবাবে এক হচ্ছে ফিলিস্তিনিরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আরব দেশগুলোর সঙ্গে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সুসম্পর্কের হুমকি মোকাবিলায় সব দ্বন্দ্ব ও মতবিরোধ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে ফিলিস্তিনের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো। দখলদার ইসরায়েলের হানায় বিপর্যস্ত গাজা উপত্যকা ও পশ্চিম তীরের মধ্যে সব বিরোধ মিটিয়ে সমঝোতা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র!

মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের নেতারা ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পর্কোন্নয়নের চুক্তি করবেন। তাদের এ উদ্যোগে হুমকিতে পড়েছে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনে আরব বিশ্বের দীর্ঘ দুই দশকের দাবি।

এ পরিস্থিতিতে গত শনিবার মাঠপর্যায়ে নেতৃত্ব ঐক্যবদ্ধকরণে সম্মত হয়েছে হামাস ও ফাতাহ-এর নেতৃত্বাধীন ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলো।

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, গাজা ও পশ্চিম তীরে ‘ক্রোধের দিন’ পালনের পরিকল্পনা করছে ফিলিস্তিনিরা। এছাড়া বিশ্বজুড়ে ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের দূতাবাসগুলোর বাইরেও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে।

ফিলিস্তিনি দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হওয়ার এ ঘোষণার মাত্র সপ্তাহ দুয়েক আগেই গত ৩ সেপ্টেম্বর দেশটির প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস, হামাসের নেতা ইসমাইল হানিয়া, ইসলামিক জিহাদের প্রধান জিয়াদ আল-নাখালাসহ বেশ কয়েকটি দল এবং গোষ্ঠীর নেতাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত বৈঠক।

হামাসসহ ফিলিস্তিনের অন্য দলগুলোর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এ বৈঠকের। কিন্তু প্রথমে আগের একতা চুক্তি মেনে চলার দাবি জানিয়ে এ অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করছিলেন মাহমুদ আব্বাস। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েল-আরব ঐক্যের চাপে অবশেষে মত বদলেছেন ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট।

ফিলিস্তিনি ঐক্যের বিশাল অগ্রগতি

হামাসের পলিটিক্যাল ব্যুরোর অন্যতম সদস্য হুসাম বাদরান মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে বলেন, বেশ কয়েকটি বিষয় ফিলিস্তিনিদের ঐক্যবদ্ধ হতে তাগিদ দিচ্ছিল। এর মধ্যে রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি করা ‘ডিল অব দ্য সেঞ্চুরি’, ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি ভূমি অধিগ্রহণের পরিকল্পনা এবং ফিলিস্তিনের জনগণের পিঠে ছুরি মেরে ইহুদিদের সঙ্গে আরব দেশগুলোর সম্পর্কোন্নয়ন।

তিনি বলেন, আরব-ইসরায়েল সম্পর্ক স্বাভাবিককরণের কারণে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ সহযোগিতা, শক্তি জোরদারকরণ এবং নিজ স্বার্থরক্ষায় সব মতপার্থক্য নিষ্পত্তি আবশ্যক হয়ে উঠেছে।

ফিলিস্তিনি নেতাদের বৈঠকে তিনটি কমিটি করা হয়েছে। প্রথমটির কাজ ইসরায়েলি দখলদারিত্ব প্রতিরোধে ফিলিস্তিনের মাঠপর্যায়ের নেতৃত্ব ঐক্যবদ্ধকরণ, দ্বিতীয়টির কাজ গাজা ও পশ্চিম তীরের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তি এবং তৃতীয়টিকে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতা সংঘ (পিএলও) পুনরুজ্জীবিতকরণের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

কমিটিগুলোকে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্টের কাছে সুপারিশ জানাতে পাঁচ সপ্তাহ সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। মাহমুদ আব্বাস প্রতিশ্রতি দিয়েছেন, সুপারিশ যা-ই হোক না কেন তিনি সেগুলোতে সম্মতি দেবেন।

হামাস-ফাতাহ পুনর্মিলন

২০০৭ সালে গাজা থেকে ফাতাহের নিরাপত্তা বাহিনীকে হামাস পদচ্যুত করার পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে। বেশ কয়েকবার বিরোধ মেটানোর চেষ্টা হলেও তা শেষপর্যন্ত সফল হয়নি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাদের সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।

ফাতাহের মুখপাত্র ইয়াদ নাসের বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণ ও স্বার্থ যেসব হুমকি বা বিপদের মুখে পড়েছে সেগুলোই কমিটি গঠন এবং জনসম্পৃক্ত প্রতিরোধের ক্ষেত্রে এই অগ্রগতি অর্জনকে ত্বরান্বিত করেছে। নাসের বলেন, বিরোধ মেটানোর এ প্রচেষ্টায় তার দল যথেষ্ট আশাবাদী।

ইসরায়েলকে প্রতিরোধ

গত এক দশকের মধ্যে হামাস-ফাতাহের বিরোধ নিষ্পত্তিতে এবারের অগ্রগতি দেখে আশায় বুক বাঁধছেন ফিলিস্তিনের সাধারণ মানুষজন।

দল দু’টির যৌথ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহেই পশ্চিম তীরে জনসম্পৃক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনার অন্যতম উদ্যোক্তা এবং ফাতাহের কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব জিবরিল রাজৌব বলেছেন, ফিলিস্তিনি দলগুলো ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর মুখোমুখি হওয়ার নিয়মগুলোতে পরিবর্তন আনতে সম্মত হয়েছে। আমরা দখলদারদের একটা জলপাই গাছও উপড়ে ফেলতে দেবো না বা বিনামূল্যে একজন ফিলিস্তিনিকেও আহত করতে দেবো না।

সূত্র: আল জাজিরা

শেয়ার করুন
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    1
    Share

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে