‘ক্যাশলেস’ যুক্তরাজ্যে বিপদে বাংলাদেশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনার পর ইউরোপের বহু দেশের মতো যুক্তরাজ্যও পুরোপুরি ক্যাশলেস হয়ে যাচ্ছে। এতে করে ব্রিটেনের বহু এথনিক মাইনোরিটি কমিউনিটির মতো বাংলাদেশি কমিউনিটির ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন।

নগদ অর্থবিহীন অর্থনীতির এ ধারায় অন্যান্য কমিউনিটির মতো বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রবীণ ও বিদেশি পর্যটকরা বিপাকে পড়ছেন। বিশেষ করে নিত্যপণ্যের খোলা বাজারের ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, এ ধারা চলতে থাকলে তাদের পেশা বদল করা ছাড়া গতি নেই। আর যুক্তরাজ্য জুড়ে সড়কের মোড়ে, ছোট রাস্তায় কর্নার শপের ব্যবসা করা বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন এথনিক মাইনোরিটি কমিউনিটির ব্যবসায়ীরা বলছেন, বড় সুপারশপ চেইনগুলো রাস্তার মোড়ে মোড়ে পৌঁছে যাওয়ায় ব্যবসা টিকিয়ে রাখার সংগ্রাম করতে হচ্ছে তাদের।

universel cardiac hospital

পূর্ব লন্ডনের বাঙালিপাড়া হোয়াইটচ্যাপেলের একটি স্টলের ব্যবসায়ী বলেন, মানুষের পকেটে বা সঙ্গে নগদ মুদ্রা না থাকায় আমরা যারা কার্ডে পেমেন্ট নিতে পারছি না, তাদের ক্রেতা ক্রমশই কমছে। আর যারা আমাদের মতো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, যাদের ক্রেডিট স্কোর নানা কারণে ভালো নেই; তারা কার্ড পেমেন্টের সিস্টেমে যেতেও পারছি না।

ব্রিটেনে বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিষ্ঠিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান জেএমজি কার্গোর স্বত্ত্বাধিকারী ও স্থানীয় চেম্বার অব কমার্সের নেতা মনির আহমেদ বলেন, ব্রিটেনে আর্থিক সংকটে নিত্যপণ্যের দাম আকাশ ছোঁয়া। এর মধ্যে অনেক সময় অনেক ক্যাশ বুথে অর্থ থাকে না। অনেক সময় ইন্টারনেট ও সার্ভার সমস্যার কারণে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা কার্ডে পেমেন্ট নিতে পারেন না।

প্রবীণদের ও অসুস্থ মানুষদের অনেক এখনও যারা নগদে কেনা-কাটায় অভ্যস্ত তাদের জন্য দুটো অপশনই থাকা উচিত।

ব্রিটেনের ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিনের লেনদেনের জন্য নগদ মুদ্রার ব্যবহার গত এক দশক ধরে দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। নগদ লেনদেন ২০১০ সালে মোট লেনদেনের ৫০ শতাংশ থেকে ২০২১ সালে মাত্র ১৫ শতাংশে নেমে এসেছে। ইউকে ফাইন্যান্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে যুক্তরাজ্যে সমস্ত অর্থ প্রদানের প্রায় এক তৃতীয়াংশ কন্টাকলেস পদ্ধতির মাধ্যমে করা হয়েছিল।

নতুন তথ্য অনুসারে, লন্ডনবাসীরা দেশের বাকি অংশের তুলনায় দ্রুত নগদ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। যুক্তরাজ্যের বেশিরভাগ ক্যাশ মেশিন নেটওয়ার্কের পরিচালনাকারী সংস্থা লিংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, যে লন্ডনের বাসিন্দা এবং কর্মীরা প্রাক-মহামারি সময়ের তুলনায় মেশিন থেকে প্রতি মাসে টাকা কম তুলছেন। ২০১৯ সালের তুলনায় ২ হাজার ৬৯টি ক্যাশ বুথ কমেছে ব্রিটেনে।

উল্লেখ্য, স্লোভাকিয়া সরকার অতি সম্প্রতি দেশটির সংসদে আইনে সংশোধনী এনে নাগরিকদের নগদ অর্থ লেনদেনের অধিকারের নিশ্চয়তা ঘোষণা করেছে।

সম্প্রতি ব্রিটেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন মুখপাত্র সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, আমরা ব্যবসায়ীদের নগদ গ্রহণ চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করার জন্য ব্যবস্থা নিয়েছি। প্রতি তিন মাইলের মধ্যে নগদ উত্তোলন এবং জমা করার সুবিধাও থাকবে।

শেয়ার করুন