সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টার সঙ্গেও বিএনপির ঐক্য!

বিশেষ প্রতিনিধি

বিএনপি সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের তীব্র সমালোচনা করে আসলেও সেই সরকারের এক উপদেষ্টাকেও জাতীয় ঐক্যে রেখেছে। ফখরুদ্দীন আহমদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মইনুল হোসেন এই ঐক্যের সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন সামনের সারিতেই।

গতকাল শনিবার বহুল আলোচিত এই ঐক্যের ঘোষণা দেয়া হয়। এতে এতদিন আলোচনা চালানো বিকল্পধারার সভাপতি সাবেক রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীই কেবল ছিলেন অনুপস্থিত।

বাকিদের মধ্যে গণফোরাম ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার প্রধান ড. কামাল হোসেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, যুক্তফ্রন্টের শরিক জেএসডির আ স ম আবদুর রব, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্নার পাশাপাশি ছিলেন মইনুল ইসলাম।

উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারির বাতিল হওয়া নির্বাচনের ১১ দিন আগে জরুরি অবস্থা জারি হয়। কিন্তু ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা স্থগিত হয়ে যায় বিএনপির রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমেদ জরুরি অবস্থা জারির কারণে।

ফখরুদ্দীনের উপদেষ্টা মইনুল হোসেন ২০০৭ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তথ্য, আইন, বিচার, তথ্য, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত, ভূমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। আর ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচনে ভূমধস জয় পায় আওয়ামী লীগ। ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ভরাডুবি হয় বিএনপির।

বিএনপি বরাবর অভিযোগ করে আসছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় নিয়ে এসেছে, তাদের মধ্যে ভাঙন ধরানোর চেষ্টাসহ নানাবিধ চেষ্টা করেছে।

এই সরকারের উপদেষ্টা মইনুল হোসেন যে বিএনপির বন্ধু হতে যাচ্ছেন, সেটা গত ২২ সেপ্টেম্বর কামাল হোসেনের জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশেই স্পষ্ট হয়। সেদিন তিনিও ছিলেন সেখানে।

শনিবার ঐক্যের ঘোষণা দিতে আয়োজন করা সংবাদ সম্মেলনে যারা বক্তব্য রাখেন তাদের মধ্যে ছিলেন মইনুলও।

সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সমালোচনা করে সেই সরকারের উপদেষ্টার সঙ্গেই কেন ঐক্য সে প্রশ্নের জবাব পাওয়া যায়নি এই সংবাদ সম্মেলনে। কারণ, না বিএনপি নেতা, না অন্য কেউ কোনো প্রশ্ন নেননি।

মইনুল তার বক্তব্যে আওয়ামী লীগের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, ‘আমি আশান্বিত। জাতি আজ হতাশার মধ্যে আছে। বর্তমান সরকার মনে করে পেশী শক্তির দিয়ে সব হয়। দেশে ৪৭ বছর পরে ভোটাধিকার নিশ্চিত হয় না, সুষ্ঠু ভোটের প্রস্তাব দিলে রাজি হয় না। আমরা সুন্দর অবাধ নির্বাচন চাই।

তিনি আরও বলেন, আপনারা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকেন, জাতি আজ অনেক আশা নিয়ে আপনাদের দিকে তাকিয়ে আছে। সুষ্ঠু ভোটের মাধ্যমে বিএনপি বা আওয়ামী লীগ যেই জন সমর্থন পাবে সেই সরকার গঠন করবে, এটাই জাতির আশা। সেই আশা যেন ভঙ্গ না হয়।

সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে কিংস পার্টি নামে পরিচয় পাওয়া কল্যাণ পার্টিকেও বিএনপি তার জোটে নিয়েছে। দলটির নেতৃত্বে আছেন সৈয়দ মোহাম্মদ ইবরাহীম। এ নিয়েও দলের পক্ষ থেকে কোনো ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি কখনও।

 

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে