রক্তের প্রয়োজনে রক্তকন্যা সানজানা

ডেস্ক রিপোর্ট

মৌলভীবাজার

রক্ত চাই, কেউ আছেন? ও পজিটিভ রক্ত লাগবে।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে রক্তের আহ্বানে প্রায়ই তাঁর পোস্ট নজরে আসে। কখনো অভূতপূর্ব সাড়া পান, আবার কখনো কখনো নিরাশ হন। তবে শুধু ফেসবুকে জানিয়েই বসে থাকেন না। রক্তের গ্রুপ জানা আছে এমন পরিচিত মানুষকে ফোন করেন। রক্তদানে রাজি হলে সংগ্রহ করেন। তাঁর এই নিরলস প্রচেষ্টায় প্রায়ই মুমূর্ষু রোগীরা রক্ত পেয়ে বেঁচে যান। এই উদ্যোগ যাঁর, তিনি সানজানা শিরিন। পেশায় মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট।

মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ থানায় ৫০ শয্যাবিশিষ্ট ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন পরিচালিত হাসপাতালে কাজ করছেন সানজানা। ১৭টি চা–বাগানের শুধু চা–শ্রমিকদের চিকিৎসার জন্য কাজ করে এই হাসপাতাল। রোগীর সেবা করাই সানজানার কাজ, তবে পেশাগত দায়িত্বের বাইরেও নিজেই কাঁধে তুলে নিয়েছেন কিছু বাড়তি দায়িত্ব।

এই বাড়তি দায়িত্ব নেওয়ার ঝোঁকটা ছোটবেলার। সানজানার বাড়ি হবিগঞ্জ জেলায়। তাঁর বেড়ে ওঠা অনেকটা প্রতিকূল পরিবেশে। সানজানা বলছিলেন, ‘মা-বাবা কেউই পড়াশোনা করেননি। আমরা সাত ভাইবোন। বড় ভাই অনেক আগেই বিয়ে করেন, বড় বোনেরও বিয়ে হয়ে যায়। পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো না। তারপরও আমরা বোনেরা চেয়েছি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে।’

রীতিমতো যুদ্ধ করেই পড়াশোনা করতে হয়েছে সানজানাকে। পড়াশোনার ফাঁকেই পাশে দাঁড়িয়েছেন অসহায় মানুষের। মাধ্যমিক শেষে হবিগঞ্জের বৃন্দাবন কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। তারপর থমকে যায় পড়াশোনা। কিন্তু সানজানার ইচ্ছার কাছে হেরে যায় পরিবার। ভর্তি হন মৌলভীবাজারের মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুলে (ম্যাটস)। সেখান থেকেই পাস করে বিভিন্ন ক্লিনিকে কাজ করেছেন।

স্বল্প বেতনের চাকরি থেকে মাস শেষে যা হাতে আসে, তা দিয়ে নিজে চলেন, বোনের পড়াশোনার খরচ চালান। আর রক্ত নিয়ে কাজ তো আছেই। সানজানার রক্তদান শুরু হয় যখন তিনি মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে কাজ করতেন, সে সময়। সেটা ২০১৪ সালের কথা। সানজানা শিরিন বলছিলেন, ‘দরিদ্র রোগীরা যখন বিনা মূল্যে রক্ত পেয়ে সুস্থ হয়ে ওঠেন, তাঁদের হাসিমুখ দেখার মতো প্রশান্তির কিছু নেই।’

শুধু রক্ত সংগ্রহের কাজ নয়, নিজেও রক্ত দেন নিয়মিত। আর এই রক্তদানের সঙ্গে সানজানার প্রিয় কাজ গর্ভবতী মায়ের স্বাভাবিক প্রসব করানো। এখন পর্যন্ত ৪১০ জন মায়ের স্বাভাবিক প্রসব করিয়েছেন সানজানা শিরিন।

শেয়ার করুন
  •  
  • 27
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    27
    Shares

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here