সহপাঠীদের কাঁদাল নুসরাতের আলিমের ফল

ডেস্ক রিপোর্ট

নুসরাত জাহান রাফি
নিহত মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি। ফাইল ছবি

নুসরাতের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় আজ বুধবার আলিমের ফল প্রকাশের পর আনন্দের বদলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় ভালো করলেও নুসরাতের কথা স্মরণ করে শোকাভিভূত সহপাঠীরা তা উদযাপন করতে পারেননি। এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন শিক্ষকরাও।  

universel cardiac hospital

অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যাওয়ার আগে ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি আলিমের যে দুটি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ওই দুটিতে ‘এ’ গ্রেড পেয়েছেন। বিষয়গুলো হলো ‘কোরআন মাজিদ’ এবং ‘হাদিস ও উসুলে হাদিস’।

বুধবার এইচএসসির সঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের আলিম পরীক্ষার ফলও প্রকাশিত হয়েছে।

দুটি পরীক্ষা দেওয়ার পর এ বছরের ৬ এপ্রিল তৃতীয় পরীক্ষা দিতে গিয়ে দুর্বৃত্তের দেওয়া আগুনে দগ্ধ হন নুসরাত। পাঁচদিন পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা মো. হুসাইন বলেন, সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে এবার আলিম পরীক্ষায় নুসরাতসহ ১৭৫ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এদের মধ্যে ১৫২ জন পাস করে। এ মাদ্রাসায় এবার পাসের হার ৮৬.৮৬ শতাংশ। নিহত নুসরাতসহ ২৭ জন ফেল করে।

তিনি বলেন, নুসরাত মেধাবী ছাত্রী ছিল। দুই বিষয়ে পরীক্ষাও দেয় সে। সবগুলো পরীক্ষা দিতে পারলে নুসরাত ভালো ফল করত।

ছবি : সংগৃহিত

ফলাফল জানতে আসা নুসরাতের ঘনিষ্ঠ বান্ধবী নিশাত সুলতানা, সহপাঠী তামান্না, নাসরিন সুলতানা জানান, তাদের সঙ্গে নুসরাতেরও পরীক্ষার ফল বেরিয়েছে।

নিশাত বলেন, আমাদের মতো তারও আন্দদিত হওয়ার কথা ছিল; কিন্তু নুসরাত আমাদের মাঝে নেই। আমরা কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হলেও কোনো সহপাঠীর মধ্যে আনন্দ নেই।

এদিকে, আলিম পরীক্ষার ফল প্রকাশের খবর পাওয়ার পর থেকে কান্না করছেন নুসরাতের মা।

নুসরাতের মা শিরিনা আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের পরিবারে আজ আনন্দ-উৎসবে ভরে যেত। কিন্তু আমার মেয়ে সবগুলো পরীক্ষা দিতে পারেনি। আমার মেয়ে দুনিয়ার পরীক্ষায় পাস করতে না পারলেও আখেরাতের পরীক্ষায় পাস করবে।

নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বলেন, নুসরাত খুব মেধাবী ছিল। ২৭ মার্চের শ্লীলতাহানির ঘটনার পর তারা তাকে পরীক্ষা দিতে নিরুৎসাহিত করেছিলেন। কিন্তু সে পরীক্ষায় অংশ নিতে চায়। আমি নিজে তাকে পরীক্ষা হলে নিয়ে যেতাম। ১ ও ২ এপ্রিল দুটি পরীক্ষায় অংশও নেয়। পরে ৬ এপ্রিল পরীক্ষা দিতে গেলে তার গায়ে আগুন দেওয়া হয়।

চলতি বছরের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ (সাবেক) সিরাজ উদ-দৌলা নুসরাত জাহান রাফিকে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে যৌন হয়রানি করেন। ওই ঘটনায় ওইদিন নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। ওইদিনই অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এর জের ধরে সিরাজ উদ-দৌলার সহযোগীরা নানাভাবে নুসরাতের পরিবারকে মামলা তুলে নিতে চাপ দেয়। তারা মামলা তুলে নিতে অস্বীকৃতি জানালে ৬ এপ্রিল নুসরাত পরীক্ষা দিতে গেলে কৌশলে তাকে মাদ্রাসার সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয় বোরকাপরা কয়েকজন লোক।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০ এপ্রিল রাতে নুসরাতের মৃত্যু হয়।

শেয়ার করুন

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে