কিংবদন্তি অভিনেতা সৌমিত্রের সঙ্গে মমতার ফোনালাপ

বিনোদন ডেস্ক

ক্রমেই উন্নতি হচ্ছে ভারতের কিংবদন্তি অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের শারীরিক অবস্থা। চিকিৎসকদের মতে, যদি আর কোনো জটিলতা তৈরি না হয়, তাহলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই হাসপাতাল থেকে বাসায় যেতে পারবেন তিনি। তবে বাসায় কিছুদিন তাঁকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে।

এদিকে হাসপাতালে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বরেণ্য এই অভিনেতার স্বাস্থ্যের ব্যাপারে জানতে চেয়েছেন এবং তাঁর জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন। সুস্থ হওয়ার পর হাসপাতালে অথবা তাঁর বাসায় গিয়ে দেখা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

রুবি হাসপাতাল সূত্র জানায়, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ভর্তি হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী হাসপাতালে ফোন করে তাঁর সর্বশেষ অবস্থা জানতে চেয়েছেন, ফুল দিয়ে মন্ত্রীকে পাঠিয়েছেন, শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

এর আগে গত শুক্রবার সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) থেকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়েছে।

চিকিৎসকদের মতে, গত বৃহস্পতিবার থেকেই সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। এই মুহূর্তে তাঁকে নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। জ্বর নেই। শুরুতে তাঁকে কৃত্রিম উপায়ে অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছিল, তাও প্রত্যাহার করা হয়েছে। শ্বাসকষ্ট হচ্ছে না, তিনি স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে পারছেন। স্বাভাবিক খাবার খাচ্ছেন। বাসার লোকজনের সঙ্গে কথা বলছেন। এখন চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে আছেন তিনি।

এদিকে শুক্রবার সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে দেখতে হাসপাতালে যান জনপ্রিয় নায়ক প্রসেনজিৎ। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে তিনি কিছু সময় কাটান। তাঁর চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। বরেণ্য এই অভিনেতার পরিবারের লোকজনের সঙ্গেও কথা বলেন।

প্রসঙ্গত, গত বুধবার সকালে কলকাতার গলফ গ্রিনে নিজ বাড়িতে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় হঠাৎ অসুস্থ হন। জ্বর আর শ্বাসকষ্টের কারণে তিনি আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে দ্রুত রুবি হাসপাতালে নিয়ে যান। তাঁকে হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞ সুনিপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের তত্ত্বাবধানে আছেন। তাঁর চিকিৎসার জন্য একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। সাতজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তাঁকে পর্যবেক্ষণ করছেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের বাঁ ফুসফুসে নিউমোনিয়া ধরা পড়েছে। তাঁকে কৃত্রিম উপায়ে অক্সিজেন দেওয়া হয়। যেহেতু ফুসফুস ও শ্বাসনালিতে সংক্রমণ ধরা পড়েছে, তাই গোড়াতে বাইরের কাউকে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। নিউমোনিয়ার পাশাপাশি তাঁর বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা রয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে তিনি কাবু হয়ে পড়েছেন। নিউমোনিয়া ছাড়াও সোডিয়াম ও পটাশিয়াম-সংক্রান্ত সমস্যা আছে।

চিকিৎসকদের মতে, তাঁর সিওপিডি (ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ) হয়েছে।

শেয়ার করুন
  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    2
    Shares

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে