‘জি কে শামীমের টেন্ডার প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখা হচ্ছে’

মত ও পথ প্রতিবেদক

জি কে শামীম
জি কে শামীম। ফাইল ছবি

মাদক, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ এবং অস্ত্র আইন মামলায় গ্রেফতার হওয়া প্রভাবশালী ঠিকাদার ও যুবলীগ নেত জি কে শামীমকে সরকারের বিভিন্ন কাজের টেন্ডার নিয়ম বহির্ভূতভাবে দেয়া হয়েছিল কি-না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

২৪ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার ) সচিবালয়ে গণমাধ্যম কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

গত শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানের নিকেতনের অফিসে অভিযান চালিয়ে জি কে বি অ্যান্ড কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেডের মালিক এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমকে আটক করে র‌্যাব। অভিযানে এক কোটি ৮০ লাখ নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ১৬৫ কোটি টাকার ওপরে এফডিআর (স্থায়ী আমানত) পাওয়া যায়। পাওয়া যায় মার্কিন ডলার, মাদক ও আগ্নেয়াস্ত্র।

সচিবালয়, র‌্যাব হেড কোয়ার্টার, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল, পঙ্গু হাসপাতালসহ বড় বড় ১৭টি প্রকল্পের প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার ঠিকাদারি কাজ করছেন জি কে শামীম।

সরকারের বেশিরভাগ স্থাপনা নির্মাণের কাজ করছেন গ্রেফতার হওয়া জি কে শামীম -এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, ‘গণমাধ্যমে যে বিষয়গুলোর এসেছে, সেগুলোর আলোকে আমিও খতিয়ে দেখছি, যে প্রক্রিয়ায় তিনি ঠিকাদারি কাজ পেয়েছেন সেটা নিয়মের অধীনে ছিল, নাকি নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে কিছু করা হয়েছিল -এগুলো খতিয়ে দেখছি।’

গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে জানা গেছে তিনি গণপূর্ত অধিদফতরের কর্মকর্তাদের টাকা দিয়ে কাজ নিতেন -এ বিষয়ে রেজাউল করিম বলেন, ‘বিষয়টি তদন্তাধীন, যারা তদন্ত করছেন তাদের তদন্ত রিপোর্ট আসার পরই এ বিষয়ে মন্তব্য করা শ্রেয়।’

জি কে শামীম এখনও সচিবালয়ে দুটি ভবন নির্মাণের কাজ করছেন -এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মন্ত্রী বলেন, ‘তিনি র‌্যাবের হেড কোয়ার্টারেরও ঠিকাদার। কীভাবে কাজগুলো হয়েছে, নিয়মের ব্যত্যয় হয়েছে কি-না বা কীভাবে হচ্ছে, এসব বিষয়গুলো আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। বিষয়টি তদন্তাধীন, তদন্তেই সব তথ্য উপাত্ত বেরিয়ে আসবে বলে আমি আশা করি।’

তদন্ত কবে শেষ হবে? -জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘তদন্ত করছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা, সেই বিষয়টি তো আমি নির্ধারণ করতে দিতে পারব না।’

মন্ত্রণালয় থেকে তদন্ত কমিটি করা হবে কি-না? এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘একটি তদন্ত চলা অবস্থায় আরেকটি তদন্ত আইনসিদ্ধ নয়। তাহলে সেই তদন্তকে ইন্টারফেয়ার করা হয়। আমরা আমাদের মতো করে বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করছি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে।’

শেয়ার করুন
  • 3
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    3
    Shares

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here