শিশু সায়মা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সাক্ষ্য দিলেন বাবা

আদালত প্রতিবেদক

সামিয়া আফরিন সায়মা
সামিয়া আফরিন সায়মা। ফাইল ছবি

রাজধানীর ওয়ারীতে ছয় বছরের শিশু সামিয়া আফরিন সায়মাকে ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন নিহতের বাবা আব্দুস সালাম এবং বাড়ির দারোয়ান মো. ফরিদ মোল্লা।

আজ বুধবার ঢাকার ১ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক কাজী আব্দুল হান্নান এ সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণের পর আগামী ১৪ জানুয়ারি পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ঠিক করেছেন।

universel cardiac hospital

সাক্ষ্য গ্রহণের সময় মামলার একমাত্র আসামি অভিযুক্ত মো. হারুন অর রশিদকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

মামলাটিতে গত ৫ নভেম্বর ডিবির পুলিশ পরিদর্শক ওয়ারী জোনাল টিম (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ আরজুন আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। এরপর গত ২ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনালে আসামির বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে ৮ জানুয়ারি সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ঠিক করেন।

অভিযুক্ত আসামি হারুন অর রশিদ কুমিল্লার মেঘনা থানার নলচর গ্রামের মো. নাছির উদ্দিনের ছেলে।

চার্জশিটে বলা হয়, আসামি হারুন অর রশিদ তার আপন খালাত ভাই পারভেজের বাসায় বিগত প্রায় দুই মাস ধরে থাকতেন। ভিকটিমের বাসা আর আসামির বসবাস করার ঠিকানা একই জায়গায়। আসামি হারুন তার খালাত ভাইয়ের রংয়ের দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন।

গত বছর ৫ জুলাই শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পারভেজের ছোট ছেলে আরাফের ওষুধ আনার জন্য হারুন বাসা থেকে বের হয়ে ওই ফ্ল্যাটের দরজার সামনে এলে একই বিল্ডিংয়ের ৬ষ্ঠ তলার ৬/বি নং ফ্লাটের মালিক আবদুস সালামের ছয় বছর বয়সী মেয়েকে দেখেন। সামিয়া মাঝে মধ্যে তার মায়ের সাথে পারভেজের বাসায় আসতো এবং তার ছোট ছেলের সাথে খেলাধুলা করতো। তাই সে হারুনকে চিনত এবং চাচ্চু বলে ডাকত।

ওই দিন আরাফ অসুস্থ থাকায় সামিয়া হারুনকে ছাদ দেখানোর জন্য বলে। হারুন তখন সামিয়াকে নিয়ে ওই বিল্ডিংয়ের সিড়ি বয়ে ৯ তলায় একটি খালি ফ্ল্যাটে নিয়ে পরিকল্পনা অনুযায়ী মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করে। এরপর শিশু সামিয়ার গলায় শক্ত পাটের রশি দিয়ে পেঁচিয়া শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর ওই ফ্লাটের রান্নাঘরের সিঙ্কের নিচে গলায় পাটের রশি দিয়ে পেঁচানো ও রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

প্রসঙ্গত, শিশু সামিয়াকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় তার বাবা আব্দুস সালাম গত বছর ৬ জুলাই ওয়ারী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। এরপর গত ৭ জুলাই কুমিল্লার ডাবরডাঙা এলাকা থেকে হারুন গ্রেপ্তার হয়। পরদিন ৮ জুলাই হারুন আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। সেই থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

শেয়ার করুন

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে