প্রতারণার অর্থ চার দেশে পাচার করেছেন রিজেন্ট সাহেদ!

ডেস্ক রিপোর্ট

করোনা টেস্ট জালিয়াতিতে গ্রেপ্তার রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান সাহেদ করিম সবচেয়ে বেশি যাতায়াত করতেন এশিয়ার চারটি দেশে। প্রতারণার মাধ্যমে সাহেদ যেসব অর্থ আত্মসাৎ করছেন সেগুলো এই দেশগুলোতে পাচার করতে পারেন বলে ধারণা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। গত ১৫ এপ্রিল সাহেদ করিমকে গ্রেপ্তারের পর তার পাসপোর্টে এই চারটি দেশে যাতায়াতের তথ্য পাওয়া গেছে। রিমান্ডে সাহেদ প্রতারণার সব বিষয় স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেছে র‌্যাব।

রোববার রাতে গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানিয়েছেন এলিট ফোর্সটির মুখপাত্র লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ।

র‌্যাব জানায়, প্রতারণার মাধ্যমে সাহেদ মানুষের কাছ থেকে যে অর্থ আত্মসাৎ করতেন সেই টাকার বড় একটা অংশ বিদেশে পাচার করেছেন। তার অফিসে অভিযানের সময় তার পাসপোর্ট জব্দ করা হয়। সেখানে দেখা গেছে, সাহেদ পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ছাড়াও নেপাল, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় যাতায়াত করতেন। এসব দেশে তার বিপুল অর্থ থাকতে পারে।

লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, ‘র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে সাহেদ তার প্রতারণার সব বিষয় স্বীকার করেছেন। মূলত অর্থ আদায়ের জন্যই তিনি প্রতারণা করেছেন। অর্থাৎ মানুষের অর্থ হাতিয়ে নেয়া তার মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল।’

এর বাইরেও সাহেদ অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়েছে, যেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে জানান র‌্যাব কর্মকর্তা।

এদিকে সাহেদের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং আইনে মামলার জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) অনুরোধ করেছে র‌্যাব। এ সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণও সিআইডিকে দেয়া হয়েছে।

৬ জুলাই রাজধানীর উত্তরায় রিজেন্ট হাসপাতালে অভিযান চালায় র‌্যাব। করোনার এই দুর্যোগকালে নমুনা সংগ্রহ করা হলেও টেস্ট না করে ফলাফল দেয়া, হাসপাতাল পরিচালনার সনদের মেয়াদ না থাকাসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়। পরদিন হাসপাতালটির উত্তরা ও মিরপুরের দুটি শাখা সিলগালা এবং সাহেদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে র‌্যাব। মামলার পর সাহেদ ঢাকা থেকে পালিয়ে যান। দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করে সবশেষ সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে দেশত্যাগের চেষ্টা করেন। ১৫ জুলাই ভোরে ভারতে পালানোর সময় সাহেদকে অস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। পরে তাকে নিয়ে উত্তরায় তার অফিসে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ জাল টাকা জব্দ করা হয়।

এই ঘটনায় সাহেদের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানা মামলা হয়। করোনা নিয়ে প্রতারণার মামলাটি তদন্তের জন্য ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সেই মামলায় তারা (ডিবি) ১০ দিনের রিমান্ডে পায়। তবে রিমান্ডে থাকাকালে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় র‌্যাব। এরপর সাহেদকে চার দিন জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ পায় সংস্থাটি।

এদিকে গতকাল রিমান্ড শেষ হলে রোববার সাহেদকে আদালতে তোলা হয়। শুনানি শেষে সাহেদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারটি মামলায় ২৮ দিনের রিমান্ড পায় ডিবি পুলিশ। এছাড়া সাতক্ষীরায় র‌্যাবের করা অস্ত্র আইনের মামলায় সাহেদকে দশ দিনের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেয় আদালত।

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে